নির্দেশনা

এই প্রিপারেশনটি হাঁপানির (অ্যাজমা) নিয়মিত চিকিৎসায় নির্দেশিত, যেখানে একটি যৌথ উপাদানের পণ্য (দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারী বিটা২-অ্যাগোনিস্ট এবং ইনহেলড কর্টিকোস্টেরয়েড) ব্যবহার করা উপযুক্ত:
  • যেসকল রোগীর রোগ ইনহেলড কর্টিকোস্টেরয়েড এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহৃত 'শর্ট-অ্যাক্টিং' বিটা২-অ্যাগোনিস্ট দ্বারা পর্যাপ্ত পরিমাণে নিয়ন্ত্রণে আসে না, অথবা
  • যেসকল রোগীর রোগ ইনহেলড কর্টিকোস্টেরয়েড এবং দীর্ঘমেয়াদী বিটা২-অ্যাগোনিস্ট-উভয় উপাদান দ্বারাই ইতিমধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ফার্মাকোলজি

স্যালমেটেরল জিনাফোয়েট হলো একটি সিলেক্টিভ, দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারী বিটা-২ অ্যাগোনিস্ট যা অ্যাজমা এবং শ্বাসনালীর অন্যান্য বিস্তৃত প্রতিবন্ধকতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। ফ্লুটিকাসন প্রোপিওনেট হলো প্রধানত গ্লুকোকোর্টিকয়েড কার্যকারিতা সম্পন্ন একটি কর্টিকোস্টেরয়েড। ফ্লুটিকাসন প্রোপিওনেট সাধারণ মাত্রায় কোনো সিস্টেমিক বা দৈহিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ফুসফুসের ওপর স্থানীয়ভাবে প্রভাব ফেলে। স্যালমেটেরল রোগের লক্ষণগুলো থেকে সুরক্ষা দেয় এবং ফ্লুটিকাসন প্রোপিওনেট ফুসফুসের কার্যক্ষমতা উন্নত করে এবং রোগের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়া রোধ করে। এই প্রিপারেশনটি একই সাথে বিটা-অ্যাগোনিস্ট এবং ইনহেলড কর্টিকোস্টেরয়েড থেরাপি গ্রহণকারী রোগীদের জন্য একটি সহজ ও সুবিধাজনক সেবনবিধি প্রদান করে। উভয় ওষুধের নিজস্ব কার্যপদ্ধতি নিচে আলোচনা করা হলো:

স্যালমেটেরল: স্যালমেটেরল একটি সিলেক্টিভ, দীর্ঘমেয়াদী (১২ ঘণ্টা) বিটা-২-অ্যাড্রেনোসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট, যার একটি দীর্ঘ পার্শ্ব-শিকল রয়েছে যা রিসেপ্টরের এক্সো-সাইটের সাথে আবদ্ধ হয়।

ফ্লুটিকাসন প্রোপিওনেট: অনুমোদিত মাত্রায় ইনহেলেশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা ফ্লুটিকাসন প্রোপিওনেট ফুসফুসের ভেতরে শক্তিশালী গ্লুকোকোর্টিকয়েড প্রদাহ-বিরোধী ভূমিকা পালন করে। এর ফলে কর্টিকোস্টেরয়েডের সিস্টেমিক বা দৈহিক ব্যবহারের মতো কোনো ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই অ্যাজমার লক্ষণ এবং তীব্রতা কমে আসে।

ঔষধের মাত্রা

ইনহেলার:
  • প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১২ বছর ও তার বেশি বয়সী কিশোর-কিশোরী: ২৫ মাইক্রোগ্রাম স্যালমেটেরল এবং ৫০ মাইক্রোগ্রাম ফ্লুটিকাসন-এর ২টি করে পাফ দৈনিক দুই বার; অথবা ২৫ মাইক্রোগ্রাম + ১২৫ মাইক্রোগ্রাম-এর ২টি করে পাফ দৈনিক দুই বার; অথবা ২৫ মাইক্রোগ্রাম + ২৫০ মাইক্রোগ্রাম-এর ২টি করে পাফ দৈনিক দুই বার।
  • শিশু (৪-১২ বছর): ২৫ মাইক্রোগ্রাম + ৫০ মাইক্রোগ্রাম-এর ২টি করে পাফ দৈনিক দুই বার।
ইনহেলেশন ক্যাপসুল: অ্যাজমার জন্য:
  • প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১২ বছর ও তার বেশি বয়সী কিশোর-কিশোরী: ৫০ মাইক্রোগ্রাম + ১০০ মাইক্রোগ্রাম অথবা ৫০ মাইক্রোগ্রাম + ২৫০ মাইক্রোগ্রাম দৈনিক দুই বার (সকালে ও রাতে, আনুমানিক ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে)।
  • ১২ বছর ও তার বেশি বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে ৫০ মাইক্রোগ্রাম + ১০০ মাইক্রোগ্রাম এবং ৫০ মাইক্রোগ্রাম + ২৫০ মাইক্রোগ্রাম-এর প্রারম্ভিক মাত্রা রোগীর হাঁপানির তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। সর্বোচ্চ অনুমোদিত মাত্রা হলো ৫০ মাইক্রোগ্রাম + ৫০০ মাইক্রোগ্রাম দৈনিক দুই বার।
  • শিশু (৪ থেকে ১১ বছর): যেসকল শিশু রোগীর অ্যাজমা কেবল ইনহেলড কর্টিকোস্টেরয়েড দ্বারা নিয়ন্ত্রণে আসে না, তাদের জন্য মাত্রা হলো ৫০ মাইক্রোগ্রাম + ১০০ মাইক্রোগ্রাম দৈনিক দুই বার (সকালে ও রাতে, আনুমানিক ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে)।
ইনহেলেশন ক্যাপসুল: সিওপিডি এর জন্য: ৫০ মাইক্রোগ্রাম + ২৫০ মাইক্রোগ্রাম দৈনিক দুই বার (সকালে ও রাতে, আনুমানিক ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে)। প্রতিবার ইনহেল করার পর মুখ ভালোভাবে কুলি বা ধুয়ে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিশেষ রোগী গোষ্ঠী: বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে বা যাদের কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হয়েছে, তাদের মাত্রা পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন নেই। যকৃতের সমস্যা থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে এই ওষুধ ব্যবহারের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইনহেলার ব্যবহার: এটি একটি রোগী-বান্ধব, ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত এবং সহজে ধরা যায় এমন একটি ডিভাইস। ব্যবহারের নির্দেশনা অনুযায়ী এটি ব্যবহার করুন।

সেবনবিধি

ইনহেলার ব্যবহার সহজ মনে হলেও অনেক রােগী সঠিকভাবে এর ব্যবহার জানে না। রােগী সঠিকভাবে ইনহেলার ব্যবহার না করলে তার ফুসফুসে পর্যাপ্ত মাত্রায় ঔষধ প্রবেশ করে না। ইনহেলারের নিয়মিত ও সঠিক ব্যবহার এ্যাজমা আক্রমন রােধ করে ও এর তীব্রতা কমায়।

নিম্নলিখিত নিয়মাবলী পালন করে আপনি আশানুরূপ ফল পেতে পারেন যা অ্যাজমা এসােসিয়েশন কর্তৃক প্রকাশিত "National Asthma Guidelines for Medical Practitioners" অনুসরণে:
  1. প্রথমে ঢাকনা খুলে নিন
  2. প্রতিবার ব্যাবহারের পুর্বে ইনহেলার ভালোভাবে ঝকিয়ে নিন।
  3.  ইনয়েলারটি যদি নতুন হয় অথবা এক সপ্তাহ বা এর অধিক বিরতিতে ব্যবহৃত হয় তাহলে এই পরীক্ষামূলক ব্যবহার প্রয়োজন; অর্থাৎ একটি মাত্রা বাতাসে নিঃসৃত করে দেখতে হবে।
  4. সুবিধাজনকভাবে যতটুকু সম্ভব শ্বাস ত্যাগ করুন এবং ইনহেলালকে সোজাভাবে ধরুন।
  5. শ্বাস বন্ধ অবস্থায় ইনহেলারের মুখ আপনার মুখের ভিতর এমনভাবে পুরে নিন যেন আপনার মুখ ও ইনহেলারের মধ্যে কোন ফাঁক না থাকে।
  6. ক্যানিস্টারে চাপ দিন এবং সাথে সাথে মুখ দিয়ে অবিরাম কিন্তু ধীর গতিতে পূর্ণ মাত্রায় শ্বাস নিন।
  7. আপনার মুখ থেকে ইনহেলার বের করে নিন। ইনহেলার করার ১০ সেকেন্ড বা যতক্ষন সম্ভাব শ্বাস বন্ধ রাখুন এবং পরে ধীরে ধীরে শ্বাস ত্যাগ করুন।
  8. ডাক্তার যদি প্রতিবার একাধিক মাত্রা গ্রহনের পরামর্শ দেশ, তবে দ্বিতীয় চাপটির জন্য একসাথে ১ মিনিট অপেক্ষা করুন। অতঃপর ইনহেলার ভালোভাবে ঝাকিতে নিন এবং ৪ নং থেকে ৭ নং পর্যন্ত নিয়মাবলীর পুনরাবৃত্রি করুন।
  9. ব্যবহারের পর ক্যাপ দিয়ে এ্যাকচুয়েটরের মুখ বন্ধ রাখুন। ইনহেলার ব্যবহারের পর মুখে সাধারণ পানি দিয়ে কুলি করুন।
  10. আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পুরো পদ্ধতিটা মাঝে মাঝে অনুশীলন করুন। যদি কোন সাহা ধোঁয়া দেখতে পান তবে বুঝবেন যে ঠোঁট দিয়ে এ্যাকচুয়েটরের মুখ ভালোভাবে ঢোকে নাই অথবা আপনি চাপের সাথে শ্বাস নিচ্ছেন না। এটা পদ্ধতিগত ভুল। এমন হলে ৪ নং পদ্ধতিটি আবার চেষ্টা করুন।
ইনহেলার পরিষ্কার করার নিয়মাবলী: সপ্তাহে অন্তত একবার আপনার ইনহেলার পরিষ্কার করুন। ক্যানিস্টারটি এ্যাকচুয়েটর থেকে আলাদা করুন এবং এ্যাকচুয়েটর ও কাভার গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। কিন্তু ধাতব ক্যানিস্টারটিকে কখনই পানিতে ভিজাবেন না। অতঃপর এ্যাকচুয়েটর ও কাভার শুকিয়ে নিন এবং ধাতব ক্যানিস্টারটি সাবধানে এ্যাকচুয়েটরের অভ্যন্তরে ঢুকিয়ে নিন। মাউথপিস কাভারটি সঠিকভাবে স্থাপন করুন।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

অ্যাজমা রোগীদের ক্ষেত্রে নন-সিলেক্টিভ এবং সিলেক্টিভ- উভয় ধরণের বিটা-ব্লকার এড়িয়ে চলা উচিত, যদি না সেগুলি ব্যবহারের কোনো অত্যন্ত জরুরি কারণ থাকে। ইনহেলেশনের মাধ্যমে ব্যবহারের পর প্লাজমায় বা রক্তে এর ঘনত্ব অত্যন্ত কম থাকায় চিকিৎসাগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশনের সম্ভাবনা নেই। তবে শক্তিশালী CYP3A4 ইনহিবিটর (যেমন: কিটোকোনাজল, রিটোনাভির) একসাথে প্রয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, কারণ এটি শরীরে ফ্লুটিকাসন প্রোপিওনেটের শোষণের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।

প্রতিনির্দেশনা

স্যালমেটেরল জিনাফোয়েট, ফ্লুটিকাসন প্রোপিওনেট বা এর যেকোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতার ইতিহাস থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে এটি প্রতিনির্দেশিত। স্ট্যাটাস অ্যাজমাটিকাস (তীব্র স্থায়ী হাঁপানি) বা অ্যাজমার অন্যান্য তীব্র এপিসোডের প্রাথমিক চিকিৎসায় যেখানে নিবিড় ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়, সেখানে এটি প্রতিনির্দেশিত।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

যেহেতু এই প্রিপারেশনটিতে স্যালমেটেরল এবং ফ্লুটিকাসন প্রোপিওনেট রয়েছে, তাই প্রতিটি উপাদানের সাথে সম্পৃক্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ধরণ ও তীব্রতা দেখা যেতে পারে। এই দুটি উপাদান একসাথে ব্যবহারের ফলে অতিরিক্ত কোনো নতুন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্যালমেটেরল বা ফ্লুটিকাসন প্রোপিওনেটের সাথে জড়িত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো নিচে দেওয়া হলো:

স্যালমেটেরল: বিটা-২ অ্যাগোনিস্ট চিকিৎসার ফার্মাকোলজিক্যাল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন: কাঁপুনি, বুক ধড়ফড় করার অনুভূতি এবং মাথাব্যথার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। তবে এগুলো সাময়িক হয়ে থাকে এবং নিয়মিত চিকিৎসায় ধীরে ধীরে কমে আসে। সংবেদনশীল রোগীদের ক্ষেত্রে কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়া (যেমন: অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন, সুপ্রাভেন্ট্রিকুলার ট্যাকিকার্ডিয়া এবং এক্সট্রা সিস্টোলস) হতে পারে। এছাড়া গাঁটে ব্যথা এবং অতিসংবেদনশীলতার প্রতিক্রিয়া যেমন: র‍্যাশ, ইডিমা (স্ফীতি) এবং অ্যানজিওইডিমার রিপোর্ট রয়েছে। মুখ ও গলার ভেতরের অংশে সামান্য অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়া এবং কদাচিৎ পেশির টানের খবর পাওয়া গেছে।

ফ্লুটিকাসন প্রোপিওনেট: কিছু রোগীর ক্ষেত্রে কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া বা বসে যাওয়া এবং মুখ ও গলায় ক্যান্ডিডিয়াসিস বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণ হতে পারে। ত্বকের অতিসংবেদনশীলতার প্রতিক্রিয়ার কথা জানা গেছে। মুখমণ্ডল এবং মুখ ও গলার ভেতরের অংশে ফোলাভাব বা ইডিমা হওয়ার বিরল ঘটনা ঘটেছে। স্যালমেটেরল/ফ্লুটিকাসন প্রোপিওনেট ইনহেলার ব্যবহারের পর পানি দিয়ে কুলকুচি বা গড়গড়া করলে কণ্ঠস্বর বসে যাওয়া এবং ক্যান্ডিডিয়াসিসের সমস্যা থেকে উপশম পাওয়া সম্ভব।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় এই ইনহেলেশন ক্যাপসুল ব্যবহারের বিষয়টি কেবল তখনই বিবেচনা করা উচিত যখন মায়ের সম্ভাব্য উপকারিতা ভ্রূণের সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি হয়। মানব গর্ভাবস্থায় স্যালমেটেরল জিনাফোয়েট এবং ফ্লুটিকাসন প্রোপিওনেট ব্যবহারের পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা নেই। প্রাণীদের ওপর একক বা যৌথ উপাদানের প্রজনন বিষাক্ততা গবেষণায় ভ্রূণের ওপর এমন কিছু প্রভাব দেখা গেছে যা একটি শক্তিশালী বিটা-২ অ্যাড্রেনোসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট এবং গ্লুকোকোর্টিকোস্টেরয়েডের অতিরিক্ত সিস্টেমিক এক্সপোজারের কারণে প্রত্যাশিত।

স্তন্যদানকাল: স্তন্যদাত্রী মায়েদের ক্ষেত্রে এই ইনহেলেশন ক্যাপসুল ব্যবহারের বিষয়টি কেবল তখনই বিবেচনা করা উচিত যখন মায়ের সম্ভাব্য সুফল শিশুর সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি হয়। মানব স্তন্যদানকালে স্যালমেটেরল জিনাফোয়েট এবং ফ্লুটিকাসন প্রোপিওনেট ব্যবহারের পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা নেই। থেরাপিউটিক মাত্রায় ইনহেল করার পর প্লাজমায় স্যালমেটেরল ও ফ্লুটিকাসন প্রোপিওনেটের মাত্রা খুবই কম থাকে, ফলে মানুষের বুকের দুধেও এর ঘনত্ব একইভাবে কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্তন্যদাত্রী প্রাণীদের ওপর করা গবেষণায় দুধে ওষুধের কম ঘনত্ব পাওয়ার মাধ্যমে এটি সমর্থিত হয়েছে। তবে মানুষের বুকের দুধে এর নিঃসরণ সম্পর্কিত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

সতর্কতা

অ্যাজমা রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার: অ্যাজমার তীব্রতা হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ার সময় বা রোগীর অ্যাজমা যদি অনিয়ন্ত্রিত ও দ্রুত অবনতিশীল অবস্থায় থাকে, তবে এই ইনহেলেশন ক্যাপসুল ব্যবহার শুরু করা উচিত নয়। এটি তীব্র বা আকস্মিক লক্ষণের তাৎক্ষণিক উপশমের জন্য নয়, যার জন্য একটি দ্রুত এবং স্বল্পমেয়াদী কার্যকারী ব্রঙ্কোডাইলেটর (যেমন: সালবুটামল) প্রয়োজন। রোগীদের সবসময় তাদের উপশমকারী ওষুধটি সাথে রাখার পরামর্শ দিতে হবে।

অ্যাজমা-সম্পর্কিত জটিলতা: এই ইনহেলেশন ক্যাপসুল দিয়ে চিকিৎসার সময় গুরুতর অ্যাজমা-সম্পর্কিত জটিলতা এবং তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। রোগীদের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে বলা উচিত, তবে এই ক্যাপসুল ব্যবহার শুরু করার পরেও যদি হাঁপানির লক্ষণগুলো অনিয়ন্ত্রিত থাকে বা আরও খারাপ হয়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

প্যারাডক্সিক্যাল ব্রঙ্কোস্পাজম: অন্যান্য ইনহেলেশন থেরাপির মতোই এই ওষুধ ব্যবহারের ঠিক পরপরই আকস্মিক ও তীব্রভাবে বুক সাঁই সাঁই করা বা প্যারাডক্সিক্যাল ব্রঙ্কোস্পাজম হতে পারে। এটি দেখা দিলে অবিলম্বে একটি দ্রুত এবং স্বল্পমেয়াদী কার্যকারী ইনহেলড ব্রঙ্কোডাইলেটর দিয়ে চিকিৎসা করতে হবে। এই ইনহেলেশন ক্যাপসুলটির ব্যবহার তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করতে হবে, রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন করতে হবে এবং প্রয়োজনে বিকল্প চিকিৎসা শুরু করতে হবে।

সিওপিডি রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার: স্যালমেটেরল/ফ্লুটিকাসন ইনহেলার ব্যবহারকারী সিওপিডি রোগীদের ওপর করা গবেষণায় নিউমোনিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধির রিপোর্ট পাওয়া গেছে। সিওপিডি রোগীদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া হওয়ার সম্ভাবনার ব্যাপারে চিকিৎসকদের সতর্ক থাকতে হবে, কারণ নিউমোনিয়ার লক্ষণ এবং সিওপিডি-র তীব্রতা বৃদ্ধির লক্ষণগুলো প্রায়শই একই রকম দেখায়।

কর্টিকোস্টেরয়েড: এই ইনহেলেশন ক্যাপসুলে একটি ইনহেলড কর্টিকোস্টেরয়েড (ফ্লুটিকাসন প্রোপিওনেট) রয়েছে। যেকোনো ইনহেলড কর্টিকোস্টেরয়েডের দীর্ঘমেয়াদী এবং উচ্চ মাত্রায় ব্যবহারের ফলে সিস্টেমিক বা দৈহিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে; তবে মুখে সেবনযোগ্য স্টেরয়েডের তুলনায় এর সম্ভাবনা অনেক কম। সম্ভাব্য সিস্টেমিক প্রভাবগুলোর মধ্যে রয়েছে কুশিং সিন্ড্রোম, কুশিংগোয়েড বৈশিষ্ট্য, অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির কার্যকারিতা হ্রাস, শিশুদের ও কিশোর-কিশোরীদের বৃদ্ধি মন্থর হওয়া (খুব বিরল ক্ষেত্রে আচরণগত সমস্যা), হাড়ের খনিজ ঘনত্ব হ্রাস পাওয়া, ছানি এবং গ্লুকোমা। তাই রোগীকে নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং ইনহেলড কর্টিকোস্টেরয়েডের মাত্রা কমিয়ে সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় নিয়ে আসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে রোগটিও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

মাত্রাধিক্যতা

এই কম্বিনেশন বা যৌথ ইনহেলারের অতিরিক্ত মাত্রা ব্যবহারের কোনো মানব তথ্য পাওয়া যায়নি; তবে উভয় ওষুধের আলাদাভাবে ওভারডোজের তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

স্যালমেটেরল: স্যালমেটেরলের ওভারডোজের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে খিঁচুনি, অ্যানজাইনা (বুকে ব্যথা), উচ্চ রক্তচাপ বা নিম্ন রক্তচাপ, ট্যাকিকার্ডিয়া (দ্রুত হৃদস্পন্দন), অ্যারিদমিয়া, স্নায়বিক উত্তেজনা বা অস্থিরতা, মাথাব্যথা, কাঁপুনি, পেশির টান, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, অবসাদ এবং অনিদ্রা। অতিরিক্ত মাত্রার অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে হাইপোক্যালেমিয়া (রক্তে পটাশিয়াম কমে যাওয়া) এবং হাইপারগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করা বৃদ্ধি পাওয়া) অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এর চিকিৎসায় স্যালমেটেরল ব্যবহার বন্ধ করার পাশাপাশি উপযুক্ত কার্ডিও-সিলেক্টিভ বিটা-ব্লকিং এজেন্ট প্রয়োগ করতে হবে; তবে ব্রঙ্কোস্পাজমের ইতিহাস থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে বিটা-ব্লকার অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত।

ফ্লুটিকাসন প্রোপিওনেট: সুপারিশকৃত মাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ফ্লুটিকাসন প্রোপিওনেট আকস্মিকভাবে ইনহেল করার ফলে সাময়িকভাবে অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। এর জন্য কোনো জরুরি ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই, কারণ কয়েক দিনের মধ্যেই অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির কার্যকারিতা স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে দীর্ঘমেয়াদী অতিরিক্ত মাত্রা ব্যবহারের ফলে স্থায়ীভাবে অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে। সেক্ষেত্রে অ্যাড্রেনাল রিজার্ভ মনিটর করার প্রয়োজন হতে পারে। ফ্লুটিকাসন প্রোপিওনেটের ওভারডোজ হওয়া সত্ত্বেও লক্ষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য এই কম্বিনেশন ইনহেলার থেরাপি একটি উপযুক্ত মাত্রায় চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে।

থেরাপিউটিক ক্লাস

Long-acting selective β-adrenoceptor stimulants, Respiratory corticosteroids

সংরক্ষণ

এটি একটি চাপযুক্ত ক্যানিস্টার; তাই খালি মনে হলেও এটি ফুটো করবেন না, ভাঙবেন না বা আগুনে পোড়াবেন না। সরাসরি সূর্যালোক বা তাপের মধ্যে রাখা এড়িয়ে চলুন। ৩০°সে. তাপমাত্রার নিচে সংরক্ষণ করুন। চোখ থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
Pack Image of Salflu 50 mcg+100 mcg Inhalation Capsule Pack Image: Salflu 50 mcg+100 mcg Inhalation Capsule
Thanks for using MedEx!
How would you rate your experience so far?