নির্দেশনা

ইসোমিপ্রাজল মাপ্‌স ট্যাবলেট নিম্নোক্ত উপসর্গে নির্দেশিত-
  • গ্যাস্ট্রোইসােফ্যাজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (জিইআরডি)
  • NSAID ওষুধ দ্বারা চিকিৎসার ফলে সৃষ্ট গ্যাস্ট্রিক আলসার
  • হেলিকোব্যাকটার পাইলােরি চিকিৎসায় (ট্রিপল থেরাপী)
  • জলিঞ্জার ইলিশন সিনড্রোম।

বিবরণ

মাপ্‌স হচ্ছে মাল্টিপল ইউনিট পিলেট সিস্টেম এর সংক্ষিপ্ত রুপ। তবে ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি এবং রিসার্চ এর দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, মডিফাইড রিলিজ কোটেড পিলেটস দ্বারা গঠিত ট্যাবলেটই হচ্ছে মাপ্‌স। মাপ্‌স একটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তি যা একই সাথে ট্যাবলেট এবং ক্যাপসুল এর উপকারি দিকগুলাে প্রদান করে।

ফার্মাকোলজি

ইসোমিপ্রাজল একটি প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর যা গ্যাষ্ট্রিক প্যারাইটাল কোষে অবস্থিত H+/K+ ATPase এনজাইম সিস্টেমের সাথে কোভালেন্ট বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত এসিড নিঃসরণের প্রধান ধাপকে বাধাগ্রস্থ করে। ইসোমিপ্রাজল (ওমিপ্রাজলের S-আইসোমার), প্রোটন পাম্প ইনহিবিটরের প্রথম একক অপটিক্যাল আইসোমার যা রেসিমিক প্রোটন পাম্প অপেক্ষাকৃত অধিকতর এসিড নিয়ন্ত্রণ করে।

ঔষধের মাত্রা

ইরােসিভ ইসােফ্যাগাইটিস-
  • পূর্ণবয়স্ক (≥১৮ বছর): ৪০ মি.গ্রা. প্রতিদিন একবার করে ৪ সপ্তাহ
  • শিশু (১২-১৮ বছর): ৪০ মি.গ্রা. প্রতিদিন একবার করে ৪ সপ্তাহ
ইরােসিভ ইসােফ্যাগাইটিস এর মেইনটেন্যান্স ডােজ-
  • পূর্ণবয়স্ক (≥১৮ বছর): ২০ মি.গ্রা. প্রতিদিন একবার
  • শিশু (১২-১৮ বছর): ২০ মি.গ্রা. প্রতিদিন একবার
NSAID ওষুধ দ্বারা চিকিৎসার ফলে সৃষ্ট গ্যাস্ট্রিক আলসার-
  • পূর্ণবয়স্ক (≥১৮ বছর): ২০ মি.গ্রা. প্রতিদিন একবার করে ৪-৮ সপ্তাহ
হেলিকোব্যাকটার পাইলােরি চিকিৎসায় (ইসােমিপ্রাজল মাপ্‌স ট্যাবলেট, ১০০০ মিগ্রা এমােক্সিসিলিন এবং ৫০০ মিগ্রা ক্লারিথ্রোমাইসিন)-
  • পূর্ণবয়স্ক (≥১৮ বছর): ২০ মি.গ্রা. প্রতিদিন দুইবার করে ৭ দিন
  • শিশু (১২-১৮ বছর): ২০ মি.গ্রা. প্রতিদিন দুইবার করে ৭ দিন
জলিঞ্জার ইলিশন সিনড্রোম-
  • পূর্ণবয়স্ক (≥১৮ বছর): ৪০-৮০ মি.গ্রা. প্রতিদিন দুইবার।

শিশু (১-১১ বছর)-
  • ইরােসিভ ইসােফ্যাগাইটিস: ওজন <২০ কেজি: ১০ মিগ্রা প্রতিদিন একবার করে ৮ সপ্তাহ। ওজন ≥২০ কেজি: ১০-২০ মিগ্রা প্রতিদিন একবার করে ৮ সপ্তাহ
  • ইরােসিভ ইসােফ্যাগাইটিস এর মেইনটেন্যান্স ডােজ: ২০ মিগ্রা প্রতিদিন একবার।
১ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে: ইসােমিপ্রাজল মাপস ট্যাবলেট  নির্দেশিত নয়।

সেবনবিধি

ইসোমিপ্রাজল মাপ্‌স ট্যাবলেটটি এক গ্লাস পানি দিয়ে গিলে ফেলুন। ট্যাবলেটটি চুষে অথবা কামড়ে খাওয়া উচিৎ নয়। যদি রােগীর ওষুধ গিলে খেতে অসুবিধা হয় তাহলে ট্যাবলেটটি আধা গ্লাস পানিতে রাখুন। তারপর ট্যাবলেটটি গুলে যাওয়া পর্যন্ত পানি ঠিকমত নাড়ুন। মিশ্রণটি সাথে সাথে অথবা ৩০ মিনিট এর মধ্যে খেতে হবে।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

ইসােমিপ্রাজল ব্যবহারের সময় ফেনিটয়েন, ওয়ারফেরিন, কুইনিডিন, ক্লারিথ্রোমাইসিন, এমােক্সিসিলিন এর মিথস্ক্রিয়ার কোন প্রমাণ নেই। তবে ডায়াজিপামের সাথে ইসােমিপ্রাজল ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডায়াজিপামের নিঃসরণ প্রক্রিয়া বিলম্ব হতে পারে। ইসােমিপ্রাজল কিটোকোনাজল, ডিগােক্সিন এবং লৌহ জাতীয় ওষুধের শােষণের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

প্রতিনির্দেশনা

ইসােমিপ্রাজলের প্রতি অতিসংবেদনশীল রােগীর ক্ষেত্রে এর ব্যবহার পরিহার করা উচিত।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

মৃদু ও অস্থায়ী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে মাথাব্যথা, ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, তলপেটে ব্যথা, কোষ্টকাঠিন্য ইত্যাদি।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থায় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে মাতৃদুগ্ধের সাথে ইসােমিপ্রাজল নিঃসৃত হয় কিনা তা জানা যায়নি।

সতর্কতা

ইসােমিপ্রাজল গ্যাস্ট্রিক আলসারে ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই ম্যালিগ্ন্যা‌ন্‌সির সম্ভাব্যতা যাচাই করে নিতে হবে। তা না হলে ইসােমিপ্রাজল রােগের লক্ষণসমূহকে ঢেকে দিয়ে রােগ নিরুপণে বিলম্ব ঘটাতে পারে।

সংরক্ষণ

আলো থেকে দূরে শুষ্ক স্থানে ২৫º সেলসিয়াস তাপমাত্রার নীচে সংরক্ষন করুন। সকল প্রকার ঔষধ শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।