নির্দেশনা

ব্রোমাজিপাম নিম্নোক্ত উপসর্গে নির্দেশিত-
  • আবেগজনিত জটিলতায় যেমন-তীব্র মানসিক চাপ ও উদ্বেগ, পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতি, অস্থিরতা, অনিদ্রা, অস্থিরতার কারণে সৃষ্ট বিষন্নতা।
  • হৃদযন্ত্র ও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতায় যেমন- সিউডোএনজাইনা পেকটোরিস, পেরিকার্ডিয়াল এংজাইটি, ট্যাকিকার্ডিয়া, আবেগজনিত উচ্চ রক্তচাপ, ডিস্প্নিয়া এবং হাইপার ভেন্টিলেশন।
  • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্রাক্টের জটিলতায় যেমন- ইরিটেবল বায়োল সিনড্রোম, এপিগ্যাস্ট্রিক পেইন, স্পাজম ও ব্লটিং ডায়রিয়া।
  • ইউরিনারি ট্রাক্টের জটিলতায় যেমন- মূত্রথলির জ্বালাপোড়া, বার বার মূত্র ত্যাগ ও ঋতুস্রাবজনিত সমস্যা।
  • সাইকোসোমাটিক ডিসঅর্ডার যেমন- মানসিক উদ্বেগজনিত মাথাব্যথা, এজমা, পাকস্থলী ও অন্ত্রের ক্ষত।
  • বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের কারণে সৃষ্ট মানসিক উদ্বেগ নিরসনে নির্দেশিত।

ফার্মাকোলজি

ব্রোমাজিপাম মানসিক যন্ত্রনায় নির্দেশিত অত্যন্ত কার্যকরী ঔষধ। স্বল্প মাত্রায় সেবনে এটি ক্ষেত্রবিশেষ দুশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপ কমায়। অধিকমাত্রায় সেবনে এটি সিডেটিভ বৈশিষ্ট্য ও মাংসপেশীর শিথিলতা উদ্রেক করে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

স্বাভাবিক মাত্রা: হাসপাতাল বহির্ভূত রোগীর ক্ষেত্রে ১.৫-৩ মিঃগ্রাঃ করে দৈনিক তিনবার পর্যন্ত। হাসপাতাল বহির্ভূত রোগীর ক্ষেত্রে ব্রোমাজিপাম স্বল্পমাত্রায় সেবন শুরু করতে হবে এবং ধীরে ধীরে এর মাত্রা বাড়ানো যেতে পারে।

মারাত্মক অবস্থায়, বিশেষত হসপিটালাইজড রোগীদের ক্ষেত্রে: ৬-১২ মিঃগ্রাঃ করে দৈনিক দুই থেকে তিনবার। তবে নির্দেশনার সময়কাল ৮-১২ সপ্তাহের অধিক হওয়া উচিৎ নয়। কোন কোন ক্ষেত্রে বেশী সময় ধরে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা বিশেষজ্ঞের দ্বারা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

বয়োঃবৃদ্ধ ও দুর্বল রোগী: বয়স্ক এবং যকৃতের কার্যক্ষমতা সীমিত এমন রোগীর ক্ষেত্রে স্বল্প মাত্রায় ব্রোমাজিপাম সেবন করতে হবে।

শিশু: ব্রোমাজিপাম শিশুদের ক্ষেত্রে নির্দেশিত নয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশেষ প্রয়োজনে সেবন করানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে ঔষধ সেবন মাত্রা শিশুর দৈহিক ওজনের (০.১-০.৩ মিঃগ্রাঃ/কেজি দৈহিক ওজন) উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করতে হবে।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে ক্রিয়াশীল ঔষধের সাথে ব্রোমাজিপাম ব্যবহার করলে এটির সিডেটিভ কার্যকারিতা বৃদ্ধি পেতে পারে। এইসব ঔষধের মধ্যে রয়েছে এন্টিডিপ্রেসেন্টস, হিপনোটিক্স, নারকোটিক্স, এন্টিসাইকোটিক্স, সিডেটিভ্স, এন্টিইপিলেপটিক্স, সিডেটিভ এন্টিহিস্টামিন্স এবং এনেসথেটিক্স। ব্রোমাজিপামের সাথে সিমেটিডিন পাশাপাশি সেবন করলে ব্রোমাজিপামের অপনয়ন অর্ধজীবন বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা থাকে। অবশ্যই এলকোহল এর সাথে ব্রোমাজিপাম সেবন বন্ধ করতে হবে, কারণ ব্রোমাজিপাম এলকোহলের সাথে সেবন করলে তন্দ্রাচ্ছন্নতার মাত্রা বাড়তে পারে।

প্রতিনির্দেশনা

ব্রোমাজিপামের প্রতি অতিসংবেদনশীল রোগীদের ক্ষেত্রে, যকৃত ও শ্বাসতন্ত্রের মারাত্মক কার্যক্ষমতা হ্রাস, স্লিপ এপনিয়া সিনড্রোম এর ক্ষেত্রে ব্রোমাজিপাম প্রতিনির্দেশিত।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলো হচ্ছে অবসাদ, ঝিমুনি, মাংসপেশীর দুর্বলতা, পেশীর অসঙ্গতি, অসতর্কতা, বিভ্রান্তি, মাথাব্যথা, এটাক্সিয়া ইত্যাদি। এই প্রতিক্রিয়াগুলো চিকিৎসা শুরুর প্রথমদিকে হতে পারে এবং ঔষধ সেবন চালিয়ে যাওয়ার ফলে এইসব প্রতিক্রিয়া থেকে মুক্ত হওয়া যায়। এন্টারোগ্রেড অ্যামনেশিয়া অনেক সময় পরিলক্ষিত হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থায় ব্রোমাজিপাম ব্যবহারের নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। যেহেতু ব্রোমাজিপাম মাতৃদুগ্ধে নিঃসরিত হয়, সেহেতু স্তন্যদাত্রী মায়েদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারে বিরত থাকা উচিত।

সতর্কতা

বেনজোডায়াজিপিন এবং বেনজোডায়াজিপিন এর মত এজেন্ট সেবনের ফলে এর প্রতি রোগীর দৈহিক ও মানসিক নির্ভরতা জন্মে। এই নির্ভরতা ঔষধের মাত্রা ও সেবনকালীন সময়ের উপর নির্ভর করে। এলকোহলসেবীদের ক্ষেত্রে এই নির্ভরতা বেশী দেখা যায়। এই ঔষধটি হঠাৎ করে সেবন বন্ধ করার ফলে প্রত্যাহার পরবর্তী অবাঞ্ছিত প্রতিক্রিয়া যেমনঃ মাথাব্যথা, পেশীতে ব্যথা, তীব্র উদ্বেগ, অস্থিরতা, বিভ্রান্তি, ক্রোধ প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়। তাই ঔষধ প্রত্যাহার পরবর্তী অবাঞ্ছিত প্রতিক্রিয়া এড়ানোর জন্য ঔষধ সেবনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমিয়ে, ঔষধ সেবন বন্ধ করতে হবে। মানসিক সমস্যাজনিত অনিদ্রার ক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে ব্রোমাজিপাম নির্দেশিত নয়। গাড়ী চালানোর সময় বা ভারী যন্ত্রপাতি চালানোর সময় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ।

থেরাপিউটিক ক্লাস

Benzodiazepine sedatives

সংরক্ষণ

আলো ও তাপ থেকে দূরে শুষ্ক স্থানে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।