সিলনিডিপিন
নির্দেশনা
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং অঙ্গ-সুরক্ষা: সিলনিডিপিন উচ্চ রক্তচাপ ব্যবস্থাপনায় এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহের সুরক্ষায় নির্দেশিত।
বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহার: এটি বয়োজ্যেষ্ঠ রোগীদের ক্ষেত্রে এবং ডায়াবেটিস ও অ্যালবুমিনুরিয়া (প্রস্রাবের সাথে অ্যালবুমিন যাওয়া) আক্রান্ত রোগীদের জন্য বেশ উপকারী বলে প্রমাণিত। এছাড়া ক্রনিক কিডনি ডিজিজ বা দীর্ঘমেয়াদী কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে সিলনিডিপাইনের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বলতে রক্তনালীতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চাপ থাকাকে বোঝায়। হৃদপিণ্ড থেকে পাম্প করা রক্তের ধাক্কা যখন রক্তনালীর দেওয়ালে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, তখনই রক্তচাপ তৈরি হয়। রক্তনালীতে এই অতিরিক্ত চাপের ফলে রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহার: এটি বয়োজ্যেষ্ঠ রোগীদের ক্ষেত্রে এবং ডায়াবেটিস ও অ্যালবুমিনুরিয়া (প্রস্রাবের সাথে অ্যালবুমিন যাওয়া) আক্রান্ত রোগীদের জন্য বেশ উপকারী বলে প্রমাণিত। এছাড়া ক্রনিক কিডনি ডিজিজ বা দীর্ঘমেয়াদী কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে সিলনিডিপাইনের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বলতে রক্তনালীতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চাপ থাকাকে বোঝায়। হৃদপিণ্ড থেকে পাম্প করা রক্তের ধাক্কা যখন রক্তনালীর দেওয়ালে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, তখনই রক্তচাপ তৈরি হয়। রক্তনালীতে এই অতিরিক্ত চাপের ফলে রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ফার্মাকোলজি
সিলনিডিপিন হলো একটি ডাইহাইড্রোপাইরিডিন ক্যালসিয়াম-চ্যানেল ব্লকার। এটি এল-টাইপ ভোল্টেজ-ডিপেন্ডেন্ট ক্যালসিয়াম চ্যানেলের ডাইহাইড্রোপাইরিডিন বাইন্ডিং সাইটের সাথে যুক্ত হয় এবং রক্তনালীর মসৃণ পেশী কোষের ঝিল্লির মধ্য দিয়ে ক্যালসিয়াম আয়ন প্রবেশে বাধা দেয়। এর ফলে রক্তনালীর পেশী শিথিল হয় এবং রক্তনালী প্রসারিত হয়।
এছাড়াও সিলনিডিপিন সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুকোষের ঝিল্লিতে থাকা এন-টাইপ ভোল্টেজ-ডিপেন্ডেন্ট ক্যালসিয়াম চ্যানেলের মাধ্যমেও ক্যালসিয়াম আয়ন প্রবেশে বাধা দেয়। এল-টাইপ চ্যানেলকে বাধা দেওয়ার সমপরিমাণ ওষুধ ঘনত্বের কাছাকাছি মাত্রাতেই এটি এন-টাইপ চ্যানেলকেও ব্লক করে থাকে। ফলস্বরূপ, সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুর প্রান্ত থেকে নর-অ্যাড্রেনালিন হরমোন নিঃসরণ বাধাগ্রস্ত হয়। এই দ্বিমুখী কার্যকারিতার কারণে সিলনিডিপিন রক্তচাপ কমার পর হৃদস্পন্দন আকস্মিক বেড়ে যাওয়ার প্রবণতাকে দমন করতে পারে।
এছাড়াও সিলনিডিপিন সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুকোষের ঝিল্লিতে থাকা এন-টাইপ ভোল্টেজ-ডিপেন্ডেন্ট ক্যালসিয়াম চ্যানেলের মাধ্যমেও ক্যালসিয়াম আয়ন প্রবেশে বাধা দেয়। এল-টাইপ চ্যানেলকে বাধা দেওয়ার সমপরিমাণ ওষুধ ঘনত্বের কাছাকাছি মাত্রাতেই এটি এন-টাইপ চ্যানেলকেও ব্লক করে থাকে। ফলস্বরূপ, সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুর প্রান্ত থেকে নর-অ্যাড্রেনালিন হরমোন নিঃসরণ বাধাগ্রস্ত হয়। এই দ্বিমুখী কার্যকারিতার কারণে সিলনিডিপিন রক্তচাপ কমার পর হৃদস্পন্দন আকস্মিক বেড়ে যাওয়ার প্রবণতাকে দমন করতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: দৈনিক ৫-১০ মি.গ্রা. সকালে নাস্তার পর একবার সেবন করতে হবে। দৈনিক সর্বোচ্চ মাত্রা ২০ মি.গ্রা. (একবার)।
শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার: শিশুদের জন্য সিলনিডিপিনের নিরাপত্তার বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়।
বয়োজ্যেষ্ঠদের ক্ষেত্রে ব্যবহার: যেহেতু বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়ার প্রতি বেশি সংবেদনশীল হতে পারেন, তাই তাদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সম্ভাব্য মাত্রা (৫ মি.গ্রা.) দিয়ে চিকিৎসা শুরু করা উচিত।
শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার: শিশুদের জন্য সিলনিডিপিনের নিরাপত্তার বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়।
বয়োজ্যেষ্ঠদের ক্ষেত্রে ব্যবহার: যেহেতু বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়ার প্রতি বেশি সংবেদনশীল হতে পারেন, তাই তাদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সম্ভাব্য মাত্রা (৫ মি.গ্রা.) দিয়ে চিকিৎসা শুরু করা উচিত।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
অন্যান্য উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ, রক্তচাপ কমিয়ে দেয় এমন অ্যান্টিসাইকোটিক (মানসিক রোগের) ওষুধ, কুইনিডিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটোইন, রিফাম্পিসিন, সিমেটিডিন এবং ইরিথ্রোমাইসিনের সাথে সিলনিডিপিন বিক্রিয়া করতে পারে।
প্রতিনির্দেশনা
সিলনিডিপিন বা এর যেকোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা বা অ্যালার্জি থাকলে এই ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া কার্ডিওজেনিক শক, সম্প্রতি হওয়া মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (হার্ট অ্যাটাক), তীব্র ও ঝুঁকিপূর্ণ বুক ব্যথা এবং গুরুতর অ্যাওর্টিক স্টেনোসিস (হৃদপিণ্ডের প্রধান রক্তনালীর কপাটিকা সংকুচিত হওয়া) রোগীদের ক্ষেত্রে এটি সম্পূর্ণ নিষেধ।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
সিলনিডিপিনের সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে: মাথা ঘোরানো, মুখ ও শরীর গরম হয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, রক্তচাপ অতিরিক্ত কমে যাওয়া, পেরিফেরাল ইডিমা (হাত-পায়ে পানি আসা), বুক ধড়ফড় করা, পরিপাকতন্ত্রের অস্বস্তি বা সমস্যা, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হওয়া, অবসাদ বা ক্লান্তি, চোখে ব্যথা এবং বিষণ্নতা।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
গর্ভবতী নারী বা গর্ভধারণের সম্ভাবনা রয়েছে এমন নারীদের সিলনিডিপিন সেবন করা উচিত নয়। স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রেও এটি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে যদি এই ওষুধটি সেবন করা অত্যন্ত জরুরি ও অপরিহার্য হয়, তবে রোগীকে স্তন্যদান বন্ধ করার নির্দেশ দিতে হবে।
সতর্কতা
যকৃতের গুরুতর অকার্যকারিতা রয়েছে এমন রোগী এবং ক্যালসিয়াম অ্যান্টাগনিস্ট জাতীয় ওষুধের প্রতি পূর্বে তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ইতিহাস আছে- এমন রোগীদের ক্ষেত্রে সিলনিডিপিন সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে। এই ওষুধটি বন্ধ করার সময় হঠাৎ বন্ধ না করে চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ধীরে ধীরে মাত্রা কমিয়ে বন্ধ করতে হবে।
থেরাপিউটিক ক্লাস
Calcium-channel blockers
সংরক্ষণ
৩০° সেলসিয়াসের নিচে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
