ইমিকুইমোড

নির্দেশনা

ইমিকুইমোড ক্রিম মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের নিচের সমস্যাগুলোর বাহ্যিক বা টপিক্যাল চিকিৎসার জন্য নির্দেশিত:
  • বাহ্যিক জননাঙ্গ এবং মলদ্বারের চারপাশের আঁচিল বা ওয়ার্টস: প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে।
  • ছোট ও সুপারফিসিয়াল ব্যাসাল সেল কার্সিনোমা: এক ধরণের ত্বকের ক্যান্সার, যা প্রাপ্তবয়স্কদের হয়ে থাকে।
  • অ্যাক্টিনিক কেরাটোসিস: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিক এমন প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের মুখমণ্ডল বা মাথার ত্বকে হওয়া সাধারণ, অ-হাইপারকেরাটোটিক এবং অ-হাইপারট্রফিক ক্ষত। এটি তখন ব্যবহার করা হয় যখন ক্ষতের আকার বা সংখ্যার কারণে ক্রায়োথেরাপি দেওয়া সম্ভব হয় না এবং অন্যান্য বাহ্যিক চিকিৎসা অনুপযোগী বা নিষিদ্ধ থাকে।

ফার্মাকোলজি

ইমিকুইমোড হলো একটি 'টোল-লাইক রিসেপ্টর-৭ অ্যাগোনিস্ট' (toll-like receptor-7 agonist), যা শরীরের সহজাত এবং অর্জিত—উভয় ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (immune response) বাড়িয়ে দেয়। এটি শরীরের ভেতর বিভিন্ন যৌগ যেমন: IFN-α, IL-1, -6, -8, -10, -12 এবং TNF-α তৈরি করতে উদ্দীপনা যোগায়। সেই সাথে এটি ন্যাচারাল কিলার (NK) সেল সক্রিয় করে এবং B-সেলের বংশবৃদ্ধি ঘটায়। এটি ল্যাঙ্গারহ্যান্স সেলকেও সক্রিয় করে লিম্ফ নোডে পাঠাতে সাহায্য করে।

ইমিকুইমোড TH-1 সেলকে উদ্দীপিত করে IFN-g তৈরি করতে সাহায্য করে, যা পরবর্তীতে সাইটোটক্সিক টি-লিম্ফোসাইটকে (cytotoxic T lymphocytes) সক্রিয় করে। এই কোষগুলো দীর্ঘস্থায়ী ইমিউন মেমোরি বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতার স্মৃতি তৈরি করে, যা ভবিষ্যতে একই ধরণের ভাইরাস বা টিউমারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

১. প্রাপ্তবয়স্কদের বাহ্যিক জননাঙ্গের আঁচিল (External genital warts):
  • ব্যবহারের সময় ও নিয়ম: সপ্তাহে ৩ বার (যেমন: সোম, বুধ ও শুক্রবার; অথবা মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনিবার) রাতে ঘুমানোর আগে ক্রিমটি লাগাতে হবে। ক্রিমটি ত্বকে ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা রাখতে হবে।
  • স্থায়িত্ব: আঁচিল পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত অথবা সর্বোচ্চ ১৬ সপ্তাহ পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।
  • প্রয়োগ পদ্ধতি: আঁচিল আক্রান্ত পরিষ্কার স্থানে আলতো করে পাতলা প্রলেপ দিয়ে ঘষতে হবে যতক্ষণ না ক্রিমটি ত্বকে মিলিয়ে যায়। শুধুমাত্র আক্রান্ত স্থানেই লাগাবেন, শরীরের ভেতরের অংশে লাগাবেন না। ৬ থেকে ১০ ঘণ্টার এই চিকিৎসা চলাকালীন গোসল বা শরীর ভেজানো যাবে না। নির্দিষ্ট সময় শেষে মৃদু সাবান ও পানি দিয়ে ক্রিমটি ধুয়ে ফেলা জরুরি। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্রিম লাগালে বা দীর্ঘসময় ত্বকে রাখলে তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। একটি সিঙ্গেল-ইউজ স্যাশে (sachet) প্রায় ২০ বর্গ সে.মি. (প্রায় ৩ ইঞ্চি$^2$) জায়গা কভার করার জন্য যথেষ্ট। একবার খোলা স্যাশে পুনরায় ব্যবহার করা যাবে না। ক্রিম লাগানোর আগে ও পরে হাত ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। খৎনা না করা পুরুষদের ক্ষেত্রে লিঙ্গের অগ্রভাগের চামড়া টেনে প্রতিদিন স্থানটি পরিষ্কার করতে হবে।
২. প্রাপ্তবয়স্কদের সুপারফিসিয়াল ব্যাসাল সেল কার্সিনোমা (Superficial basal cell carcinoma):
  • ব্যবহারের সময় ও নিয়ম: সপ্তাহে ৫ বার (যেমন: সোমবার থেকে শুক্রবার) রাতে ঘুমানোর আগে ৬ সপ্তাহ ধরে লাগাতে হবে এবং ত্বকে প্রায় ৮ ঘণ্টা রাখতে হবে।
  • প্রয়োগ পদ্ধতি: ক্রিম লাগানোর আগে আক্রান্ত স্থান মৃদু সাবান ও পানি দিয়ে ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। টিউমার এবং তার চারপাশের ১ সেন্টিমিটার ত্বক কভার করার মতো পর্যাপ্ত ক্রিম লাগাতে হবে। ক্রিমটি মিলিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত আক্রান্ত স্থানে ঘষতে হবে। প্রায় ৮ ঘণ্টার এই সময়ে গোসল করা যাবে না। এরপর মৃদু সাবান ও পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। স্যাশে পুনরায় ব্যবহার করা যাবে না। ক্রিম লাগানোর আগে ও পরে হাত ধুয়ে নিতে হবে।
  • ফলো-আপ: চিকিৎসা শেষ হওয়ার ১২ সপ্তাহ পর টিউমারের অবস্থা মূল্যায়ন করতে হবে। যদি পুরোপুরি নিরাময় না হয়, তবে অন্য চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। যদি ত্বকের তীব্র প্রতিক্রিয়ার কারণে রোগীর খুব অস্বস্তি হয় বা ইনফেকশন দেখা দেয়, তবে কয়েক দিনের জন্য ক্রিম ব্যবহার বন্ধ রাখা যেতে পারে (এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে অন্য ব্যবস্থা নিতে হবে)।
৩. প্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাক্টিনিক কেরাটোসিস (Actinic keratosis):
  • ব্যবহারের সময় ও নিয়ম: চিকিৎসা অবশ্যই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে শুরু এবং পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সপ্তাহে ৩ বার (যেমন: সোম, বুধ ও শুক্রবার) ৪ সপ্তাহের জন্য রাতে ঘুমানোর আগে ক্রিমটি লাগাতে হবে এবং ত্বকে প্রায় ৮ ঘণ্টা রাখতে হবে।
  • প্রয়োগ পদ্ধতি: পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্রিম আক্রান্ত স্থানে এবং তার চারপাশের ১ সেন্টিমিটার ত্বক জুড়ে লাগাতে হবে এবং মিলিয়ে যাওয়া পর্যন্ত ঘষতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পর মৃদু সাবান ও পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। স্যাশে পুনরায় ব্যবহার করা যাবে না এবং ব্যবহারের আগে-পরে হাত ধুতে হবে।
  • ফলো-আপ: ৪ সপ্তাহের চিকিৎসা শেষে পরবর্তী ৪ সপ্তাহ কোনো ক্রিম ব্যবহার না করে (treatment-free period) ক্ষত ভালো হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে। যদি ক্ষত থেকে যায়, তবে আরও ৪ সপ্তাহের জন্য কোর্সটি পুনরাবৃত্তি করতে হবে। তীব্র প্রদাহ বা ইনফেকশন হলে ডোজ বন্ধ রাখার কথা বিবেচনা করতে হবে। বাদ পড়া ডোজ বা বিরতির কারণে কোনো কোর্সই ৪ সপ্তাহের বেশি বাড়ানো যাবে না। যদি ২য় কোর্সের প্রায় ৮ সপ্তাহ পরেও পুরোপুরি নিরাময় না হয়, তবে আরও একটি ৪ সপ্তাহের কোর্সের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। এরপরও কাজ না হলে অন্য চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়। যদি ক্ষত পুরোপুরি ভালো হয়ে যাওয়ার পর আবার ফিরে আসে, তবে কমপক্ষে ১২ সপ্তাহের বিরতি দিয়ে পুনরায় ১ বা ২ কোর্সের চিকিৎসা নেওয়া যেতে পারে।
সব ক্ষেত্রের জন্য সাধারণ তথ্য: যদি কোনো ডোজ মিস হয়ে যায়, তবে মনে পড়ার সাথে সাথেই ক্রিমটি লাগাতে হবে এবং পূর্বের শিডিউল অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। তবে কোনোভাবেই দিনে একবারের বেশি ক্রিম লাগানো যাবে না।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

অন্য কোনো ওষুধের সাথে এর প্রতিক্রিয়া নিয়ে কোনো গবেষণা করা হয়নি (এমনকি ইমিউনোসপ্রেসিব ড্রাগের সাথেও নয়)। তবে ত্বক দিয়ে এই ক্রিম খুব সামান্যই রক্তে শোষিত হয় বলে অন্যান্য সিস্টেমিক ওষুধের সাথে এর বিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা খুবই সীমিত। যেহেতু এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, তাই যারা ইমিউনোসপ্রেসিব (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমানোর) ওষুধ খাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত।

প্রতিনির্দেশনা

ইমিকুইমোড বা এই ক্রিমের উপাদানগুলোর প্রতি অতিসংবেদনশীলতা বা অ্যালার্জি (hypersensitivity) থাকলে এটি ব্যবহার করা যাবে না।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

ক্ষত স্থানে পুঁজ হওয়া, জননাঙ্গে ক্যান্ডিডিয়াসিস (ছত্রাক সংক্রমণ), ভ্যাজাইনাইটিস (যোনিপথের প্রদাহ), ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন, ফাঙ্গাল ইনফেকশন, ঊর্ধ্ব শ্বাসনালীর সংক্রমণ, ভালভাইটিস, রাইনাইটিস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া, খাবারে অরুচি, অনিদ্রা, বিষণ্ণতা, খিটখিটে মেজাজ, মাথাব্যথা, প্যারেস্থেসিয়া (ত্বকে অবশ ভাব বা সুই ফোটার মতো অনুভূতি), মাথা ঘোরা, মাইগ্রেন, ঝিমুনি, চোখের পাতায় জ্বালাপোড়া বা ফুলে যাওয়া, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হওয়া, মুখ বা শরীর লাল হয়ে যাওয়া (flushing), ফ্যারিনজাইটিস, নাক বন্ধ হওয়া, গলা ব্যথা, বমি বমি ভাব, পেট ব্যথা, ডায়রিয়া, বমি, মলদ্বারের সমস্যা, মলত্যাগের তীব্র বেগ (tenesmus), মুখ শুকিয়ে যাওয়া, চুলকানি, ফলিকুলাইটিস (পশমের গোড়ায় প্রদাহ), ত্বকে লালচে র‍্যাশ, একজিমা, অতিরিক্ত ঘাম, আমবাত (urticaria), ত্বক আলসার বা ক্ষত হওয়া, পেশী ব্যথা, জয়েন্টে ব্যথা, পিঠ ব্যথা, হাত-পায়ে ব্যথা, প্রস্রাবের সময় ব্যথা (dysuria), পুরুষাঙ্গে বা জননাঙ্গে ব্যথা, মিলনে কষ্ট বা ব্যথা (dyspareunia), ইরেক্টাইল ডিসফাংশন, জরায়ু নেমে যাওয়া (uterovaginal prolapse), যোনিপথে ব্যথা।

এছাড়াও প্রয়োগকৃত স্থানে চুলকানি, ব্যথা, জ্বালাপোড়া, লালচে ভাব, রক্তপাত, ফুসকুড়ি, প্রদাহ, দুর্বলতা, অবসাদ, জ্বর, ত্বক ফেকাশে বা কালো হয়ে যাওয়া (hypopigmentation/hyperpigmentation) এবং চুল পড়ে যাওয়ার (alopecia) মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। রক্ত পরীক্ষায় হিমোগ্লোবিন, শ্বেত রক্তকণিকা, নিউট্রোফিল এবং প্লাটিলেট কমে যাওয়ার প্রমাণও পাওয়া গেছে।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থায় ব্যবহার (Pregnancy Category B1): মানুষের ওপর পর্যাপ্ত কোনো গবেষণা নেই। গর্ভাবস্থায় ইমিকুইমোড ক্রিম কেবল তখনই ব্যবহার করা উচিত, যদি ভ্রূণের সম্ভাব্য ঝুঁকির তুলনায় মায়ের উপকারিতা বেশি হয়।

স্তন্যদানকালে ব্যবহার: মানুষের ওপর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্তন্যদানকালে এটি কেবল তখনই ব্যবহার করা উচিত, যদি নবজাতকের সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে মায়ের উপকারিতা বেশি প্রাধান্য পায়।

সতর্কতা

ওষুধের মূল উপাদান বা যেকোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা থাকলে ব্যবহার করা যাবে না।

বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহার

শিশুদের ক্ষেত্রে: ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য এই ক্রিম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয় না।

বয়স্কদের ক্ষেত্রে: বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে এই ক্রিম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া রয়েছে।

যানবাহন ও যন্ত্রপাতি চালনার ওপর প্রভাব: এই ক্রিম ব্যবহারের ফলে গাড়ি চালানো বা যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ক্ষমতায় কোনো প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।

মাত্রাধিক্যতা

ত্বকে লাগানোর ক্ষেত্রে এই ওষুধ খুব সামান্য শোষিত হয় বলে অতিরিক্ত মাত্রার ঝুঁকি কম। তবে ত্বকে একটানা অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে মারাত্মক স্থানীয় ত্বকের প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

ভুলবশত মুখে খেয়ে ফেললে- একটি একক ২০০ মিলিগ্রাম ডোজে (যা প্রায় ১৬টি স্যাশের সমান) বমি বমি ভাব, বমি, মাথাব্যথা, পেশী ব্যথা এবং জ্বর হতে পারে। ২০০ মিলিগ্রাম বা তার বেশি ডোজ মুখে খাওয়ার ফলে সবচেয়ে গুরুতর যে সমস্যাটি দেখা গেছে তা হলো রক্তচাপ কমে যাওয়া (hypotension), যা মুখে বা শিরায় স্যালাইন/ফ্লুইড দেওয়ার মাধ্যমে ঠিক করা সম্ভব।

থেরাপিউটিক ক্লাস

Immunosuppressant, Miscellaneous topical agents

সংরক্ষণ

আলো থেকে দূরে, ঠাণ্ডা ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন। ৪° থেকে ২৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে রাখুন।

Available Brand Names

Thanks for using MedEx!
How would you rate your experience so far?