লোটিপ্রেডনল + টোব্রামাইসিন

নির্দেশনা

এই কম্বিনেশন অপথালমিক সাসপেনশনটি স্টেরয়েড-সংবেদনশীল চোখের প্রদাহজনিত অবস্থার জন্য নির্দেশিত যেখানে কর্টিকোস্টেরয়েড ব্যবহার করা প্রয়োজন এবং একই সাথে চোখে ব্যাকটেরিয়াজনিত বাহ্যিক সংক্রমণ রয়েছে বা সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। চোখের স্টেরয়েডসমূহ চোখের পাতা (palpebral) ও কনজাংটিভা (bulbar conjunctiva), কর্নিয়া এবং গ্লোবের সামনের অংশের (anterior segment) প্রদাহজনিত সমস্যা- যেমন: অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস, অ্যাকনি, সুপারফিসিয়াল পাঙ্কটেট কেরাটাইটিস, হার্পিস জোস্টার কেরাটাইটিস, আইরাইটিস এবং সাইক্লাইটিস-এর চিকিৎসায় নির্দেশিত। এছাড়া চোখের অস্ত্রোপচার (সার্জারি) পরবর্তী প্রদাহের চিকিৎসায়ও এটি ব্যবহার করা হয়।

ফার্মাকোলজি

লোটিপ্রেডনল (কোর্টিকোস্টেরয়েড) ফসফোলাইপেজ A2 ইনহিবিটরি প্রোটিন তৈরির মাধ্যমে কাজ করে বলে ধারণা করা হয়, যাকে যৌথভাবে লিপোকোর্টিন্স বলা হয়। মনে করা হয় যে, এই প্রোটিনগুলো প্রদাহের মূল উপাদান যেমন— প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন এবং লিউকোট্রিন্স-এর জৈব সংশ্লেষণকে (biosynthesis) নিয়ন্ত্রণ করে। এটি মূলত তাদের সাধারণ উৎস অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিডের নিঃসরণকে বাধা দেওয়ার মাধ্যমে ঘটে থাকে। অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিড ফসফোলাইপেজ A2 এনজাইমের মাধ্যমে কোষের ঝিল্লি ফসফোলাইপিড থেকে নিঃসৃত হয়।

গ্যাটিফ্লক্সাসিন হলো একটি ৮-মিথোক্সিফ্লুরোকুইনোলন যার C7 পজিশনে একটি ৩-মিথাইলপাইপেরাজিনিল সাবস্টিটিউয়েন্ট রয়েছে। গ্যাটিফ্লক্সাসিনের ব্যাকটেরিয়ানাশক কার্যকারিতা মূলত ডিএনএ গাইরেজ এবং টপোআইসোমারেজ IV এনজাইমকে বাধা দেওয়ার মাধ্যমে ঘটে থাকে। ডিএনএ জাইরেজ একটি অপরিহার্য এনজাইম যা ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ-এর প্রতিরূপ তৈরি, ট্রান্সক্রিপশন এবং মেরামতের থে জড়িত। অন্যদিকে, টপোআইসোমারেজ IV এনজাইমটি ব্যাকটেরিয়ার কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোমাল ডিএনএ পৃথকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গ্যাটিফ্লক্সাসিন সহ অন্যান্য ফ্লুরোকুইনোলনের কার্যপ্রণালী অ্যামিনোগ্লাইকোসাইড, ম্যাক্রোলাইড এবং টেট্রাসাইক্লিন অ্যান্টিবায়োটিকের চেয়ে ভিন্ন। অতএব, গ্যাটিফ্লক্সাসিন সেইসব জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর হতে পারে যা উক্ত অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর প্রতি প্রতিরোধী এবং একইভাবে গ্যাটিফ্লক্সাসিন-প্রতিরোধী জীবাণুর বিরুদ্ধে ওই অ্যান্টিবায়োটিকগুলো কার্যকর হতে পারে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

আক্রান্ত চোখের (বা চোখগুলোর) কনজাংটিভাল স্যাকে প্রতি চার থেকে ছয় ঘণ্টা পর পর এক বা দুই ফোঁটা করে এই স্টেরাইল অপথালমিক সাসপেনশন ব্যবহার করুন। প্রাথমিক ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে, চিকিৎসকের পরামর্শে মাত্রা বাড়িয়ে প্রতি এক থেকে দুই ঘণ্টা পর পর ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষণগুলোর উন্নতি হওয়ার সাথে সাথে ধীরে ধীরে ব্যবহারের মাত্রা কমিয়ে আনা উচিত। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অকালেই এই চিকিৎসা বন্ধ না করার ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

এখন পর্যন্ত অন্য কোনো ওষুধের সাথে মিথস্ক্রিয়া রিপোর্ট করা হয়নি। যদি চোখে একাধিক ওষুধ ব্যবহার করতে হয়, তবে প্রতিটি ওষুধ ব্যবহারের মাঝে অন্তত ৫ মিনিটের ব্যবধান রাখা উচিত।

প্রতিনির্দেশনা

এই স্টেরাইল অপথালমিক সাসপেনশনটি কর্নিয়া এবং কনজাংটিভার অধিকাংশ ভাইরাসজনিত রোগ, যেমন- এপিথেলিয়াল হার্পিস সিমপ্লেক্স (epithelial herpes simplex), চোখের মাইকোব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ এবং চোখের অন্যান্য অংশের ছত্রাকজনিত রোগে প্রতিনির্দেশিত (ব্যবহার করা যাবে না)। এছাড়া এই প্রিপারেশনের যেকোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা থাকলে এটি ব্যবহার করা যাবে না। অন্য কোনো কুইনোলন, অ্যাসিটাইলস্যালিসিলিক অ্যাসিড এবং অন্যান্য নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ওষুধের প্রতি অতিসংবেদনশীলতার ইতিহাস থাকলেও এটি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

স্টেরয়েড/অ্যান্টি-ইনফেক্টিভ কম্বিনেশন ওষুধের ক্ষেত্রে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যা স্টেরয়েড উপাদান, অ্যান্টি-ইনফেক্টিভ উপাদান কিংবা এই দুটির যৌথ প্রতিক্রিয়ার কারণে হতে পারে।
  • স্টেরয়েডজনিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ (IOP) বৃদ্ধি পাওয়া (যার ফলে অপটিক নার্ভের ক্ষতি হতে পারে), দৃষ্টিশক্তির তীক্ষ্ণতা ও পরিধি কমে যাওয়া, পোস্টেরিয়র সাবক্যাপসুলার ছানি (cataract) গঠন, ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া, হার্পিস সিমপ্লেক্স সহ অন্যান্য জীবাণু দ্বারা সেকেন্ডারি সংক্রমণ হওয়া এবং কর্নিয়া বা স্ক্লেরা পাতলা হয়ে গেলে চোখ ফুটো (perforation of the globe) হওয়া।
  • গ্যাটিফ্লক্সাসিনজনিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়া (প্রায় ৫-১০% রোগীর ক্ষেত্রে) পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে— কনজাংটিভাল ইরিটেশন (চোখ জ্বালাপোড়া), অতিরিক্ত পানি পড়া, কেরাটাইটিস এবং প্যাপিলারি কনজাংটিভাইটিস।
  • অন্যান্য প্রতিক্রিয়া (১-৪% রোগীর ক্ষেত্রে): কেমোসিস (চোখের ঝিল্লি ফুলে যাওয়া), কনজাংটিভাল হেমোরেজ (রক্তক্ষরণ), চোখ শুকিয়ে যাওয়া, চোখ দিয়ে তরল বা পুঁজ বের হওয়া, চোখে অস্বস্তি, চোখ ব্যথা, চোখের পাতা ফুলে যাওয়া, মাথাব্যথা, চোখ লাল হওয়া (সবচেয়ে সাধারণ, প্রায় ৬%), দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পাওয়া এবং স্বাদের অনুভূতি পরিবর্তন হওয়া। চুলকানি, চোখ দিয়ে পানি পড়া, আলোভীতি এবং ঝাপসা দৃষ্টি ২%-এরও কম রোগীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

প্রেগন্যান্সি ক্যাটাগরি 'C'। গর্ভবতী নারীদের ওপর পর্যাপ্ত এবং সুনিয়ন্ত্রিত কোনো গবেষণা নেই। গর্ভাবস্থায় এটি কেবল তখনই ব্যবহার করা উচিত, যখন সম্ভাব্য উপকারিতা ভ্রূণের সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি বা যুক্তিযুক্ত হয়। এই ওষুধটি মানুষের মাতৃদুগ্ধে নিঃসৃত হয় কিনা তা জানা যায়নি। যেহেতু অনেক ওষুধই মায়ের দুধে নিঃসৃত হয়, তাই স্তন্যদায়ী মাকে এই ওষুধ দেওয়ার সময় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

সতর্কতা

  • এই প্রিপারেশনটি চোখের কনজাংটিভার নিচে (sub-conjunctivally) ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া যাবে না, কিংবা সরাসরি চোখের সম্মুখ প্রকোষ্ঠে (anterior chamber) প্রবেশ করানো যাবে না।
  • যদি এই ওষুধটি ১০ দিন বা তার বেশি সময় ধরে ব্যবহার করা হয়, তবে নিয়মিত চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ (intraocular pressure) পরীক্ষা করা উচিত।
  • দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ব্যবহারের পর যদি কর্নিয়ার আলসার ভালো না হয়, তবে সেখানে ছত্রাক বা ফাঙ্গাসের আক্রমণ হয়েছে কিনা তা বিবেচনা করতে হবে।
  • যদি চোখ লাল হওয়া বা চুলকানি আরও বেড়ে যায়, তবে রোগীকে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
  • যারা সফট কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন এবং যাদের চোখ লাল নয়, তাদের ওষুধ ব্যবহারের পর লেন্স পরার আগে অন্তত ১০ মিনিট অপেক্ষা করার পরামর্শ দিতে হবে।

থেরাপিউটিক ক্লাস

Ophthalmic steroid - antibiotic combined preparations

সংরক্ষণ

কক্ষ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করুন এবং আলো থেকে দূরে রাখুন। ড্রপারের অগ্রভাগ কোনো পৃষ্ঠে স্পর্শ করবেন না। বোতলটি প্রথমবার খোলার ১ মাস পর এর ভেতরের ওষুধ ব্যবহার না করাই শ্রেয়। অতিরিক্ত ঠান্ডায় জমিয়ে ফেলা থেকে মুক্ত রাখুন।
Thanks for using MedEx!
How would you rate your experience so far?