নির্দেশনা

এভিল নিম্নোক্ত উপসর্গে নির্দেশিত-

হে ফিভার, ড্রাগ র‍্যাশ, এনজিওনিউরোটিক এডিমা, সেরাম সিকনেস, অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস, ফুড অ্যালার্জি ইত্যাদি সহ অন্যান্য অ্যালার্জিক অবস্থা।

শ্বাসতন্ত্রের অবস্থা যেখানে অতিরিক্ত নিঃসরণ হয়, যেমন- ভাসোমোটর রাইনাইটিস এবং অ্যাকিউট রাইনাইটিস।

নিউরোডার্মাটাইটিস, যেকোনো ধরণের একজিমা, লাইকেন প্ল্যানাস, অ্যাকিউট এবং ক্রনিক আর্টিকেরিয়া, মলদ্বার বা যৌনাঙ্গের চুলকানি, জন্ডিস এবং ডায়াবেটিস জনিত চুলকানি, রেডিয়েশন সিকনেস ইত্যাদি সহ ত্বকের সকল চুলকানিজনিত অবস্থা।

মোশন সিকনেস (ভ্রমণজনিত অসুস্থতা) প্রতিরোধ ও চিকিৎসা।

মেনিয়ার্স ডিজিজ এবং অন্যান্য ল্যাবিরিন্থাইন সমস্যার কারণে সৃষ্ট বমি বমি ভাব, বমি এবং মাথা ঘোরার প্রতিরোধ ও চিকিৎসা।

ফার্মাকোলজি

ফেনিরামিন একটি কম্পিটিটিভ H1 হিস্টামিন রিসেপ্টর অ্যান্টাগনিস্ট। অন্যান্য অ্যালকাইলঅ্যামিন অ্যান্টিহিস্টামিনের মতো এটি মাসকারিনিক কোলিনার্জিক রিসেপ্টরেরও অ্যান্টাগনিস্ট এবং এর লোকাল অ্যানেসথেটিক (স্থানীয় চেতনানাশক) বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তবে, এই শেষের প্রভাবটির জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রা সাধারণত চিকিৎসায় ব্যবহৃত মাত্রায় অর্জিত হয় না।

ফেনিরামিন হিস্টামিন H1 রিসেপ্টরের জন্য হিস্টামিনের সাথে প্রতিযোগিতা করে এবং যুক্ত হওয়ার পর একটি ইনভার্স অ্যাগোনিস্ট হিসাবে কাজ করে। H1 রিসেপ্টরের কার্যকারিতা হ্রাসের কারণে চুলকানি কমে যায়, এর পাশাপাশি রক্তনালীর প্রসারণ ও কৈশিক নালীর লিকেজ কমে গিয়ে লালচেভাব এবং এডিমা (ফুলে যাওয়া) হ্রাস পায়। এটি হিস্টামিন-প্ররোচিত ফুলে যাওয়া এবং লাল হওয়ার প্রতিক্রিয়া দমনের মাধ্যমে লক্ষ্য করা যায়।

ফেনিরামিনের মতো প্রথম প্রজন্মের অ্যান্টিহিস্টামিনের কারণে হওয়া তন্দ্রাচ্ছন্নতার জন্য কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে (CNS) H1 রিসেপ্টরের ইনভার্স অ্যাগোনিজমও দায়ী। H4 রিসেপ্টরগুলির সাথে ফেনিরামিনের সংযুক্তি এবং পরবর্তী ইনভার্স অ্যাগোনিজম প্রদাহ প্রতিরোধের মাধ্যমে চুলকানি কমাতেও সাহায্য করতে পারে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

সকল ক্ষেত্রে মাত্রা পৃথকভাবে নির্ধারণ করতে হবে এবং এটি খাবারের সাথে বা খাবারের পরপরই গ্রহণ করা উচিত। চিকিৎসা সম্ভব সর্বনিম্ন মাত্রায় শুরু করা উচিত কারণ অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে, অ্যান্টিহিস্টামিন ঔষধগুলো প্রায়শই কম মাত্রায় কার্যকর হয়। প্রতিদিন প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ ৩ মি.গ্রা. মাত্রা অতিক্রম করা উচিত নয়। বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের মাত্রা সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত।

ভ্রমণজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ করতে, ভ্রমণের অন্তত ৩০ মিনিট আগে প্রথম ডোজটি গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তন্দ্রাচ্ছন্নতার ঝুঁকির কারণে, ঔষধ সেবনের পর রোগীর মোটর গাড়ি চালানো বা যন্ত্রপাতি পরিচালনা করা উচিত নয়।

ফেনিরামিন ম্যালিয়েট ট্যাবলেট:
  • প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১০ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে: চিকিৎসা প্রতিদিন তিনবার পর্যন্ত অর্ধেক ট্যাবলেট গ্রহণের মাধ্যমে শুরু করা হয়। প্রয়োজন হলে এই মাত্রা বাড়িয়ে প্রতিদিন তিনবার পর্যন্ত একটি করে ট্যাবলেট করা যেতে পারে।
  • ৫-১০ বছর বয়সী শিশু: প্রতিদিন তিনবার পর্যন্ত অর্ধেক ট্যাবলেট।
  • ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে: ফেনিরামিন ম্যালিয়েট ট্যাবলেট সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয় না।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

MAO-ইনহিবিটরস ঔষধগুলো ফেনিরামিনের অ্যান্টিকোলিনার্জিক প্রভাবকে দীর্ঘায়িত এবং তীব্র করতে পারে (প্রতিনির্দেশনা দেখুন)।

অ্যালকোহল বা অন্যান্য CNS ডিপ্রেসেন্টস (যেমন- ঘুমের ঔষধ, সিডেটিভস, ট্রানকুইলাইজার) এর সাথে গ্রহণ করলে ফেনিরামিনের কারণে স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতিকারক প্রভাবগুলো বৃদ্ধি পেতে পারে।

অ্যাট্রোপিন এবং এই সম্পর্কিত ঔষধগুলো ফেনিরামিনের অ্যান্টিকোলিনার্জিক কার্যকারিতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

প্রতিনির্দেশনা

ফেনিরামিন বা এর অন্য কোনো উপাদানের (যেমন- সিরাপে মিথাইল হাইড্রক্সিবেনজয়েট বা প্রোপাইল হাইড্রক্সিবেনজয়েট) প্রতি অতিসংবেদনশীল বা অ্যালার্জি আছে এমন রোগী।

লক্ষণযুক্ত প্রোস্ট্যাটিক হাইপারট্রফির রোগী।

MAO-ইনহিবিটর থেরাপি গ্রহণকারী রোগী।

নবজাতক এবং অপরিণত শিশু।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো তন্দ্রাচ্ছন্নতা বা অবসাদ, যা শরীর মানিয়ে নিলে কয়েক দিন পর প্রায়ই দূর হয়ে যায়। এছাড়া অতিসংবেদনশীলতার প্রতিক্রিয়াও রিপোর্ট করা হয়েছে।
  • কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র: অবসাদ, মাথা ঘোরা, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হওয়া (টিনিটাস), মনোযোগের অভাব, সমন্বয়হীনতা, বিরক্তি, অনিদ্রা এবং কাঁপুনি। অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনের পর শিশুদের ক্ষেত্রে মূলত উত্তেজনা এবং খিঁচুনি, এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অস্থিরতা, বিভ্রান্তি এবং হ্যালুসিনেশন সাধারণ লক্ষণ।
  • পরিপাকতন্ত্র: বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, পেট ব্যথা (কলিক), এপিগ্যাস্ট্রিক ব্যথা, ক্ষুধামন্দা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্য।
  • রেচন ও জননতন্ত্র: প্রস্রাব আটকে থাকা।
  • কার্ডিওভাসকুলার: বুক ধড়ফড় করা, মাথাব্যথা।
  • চোখ: ঝাপসা দৃষ্টি, চোখের ভেতরের চাপ বৃদ্ধি।
  • পেশী ও কঙ্কালতন্ত্র: পেশীর দুর্বলতা।
  • রক্তসংবহনতন্ত্র: অ্যাগ্রানুলোসাইটোসিস এবং হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়া সহ রক্তের অস্বাভাবিকতার বিরল ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

প্রেগন্যান্সি ক্যাটাগরি 'এ'। অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেই কেবল ব্যবহার করা উচিত।

সতর্কতা

ফেনিরামিন ম্যালিয়েট তন্দ্রা সৃষ্টি করতে পারে। যেসব রোগীর কাজকর্মে (যেমন- গাড়ি চালানো বা ভারী যন্ত্রপাতি পরিচালনা) বিশেষ মনোযোগের প্রয়োজন হয়, তাদের ক্ষেত্রে মাত্রা এবং সেবনের সময় খুব সাবধানতার সাথে বিবেচনা করা উচিত।

রোগীদের একই সাথে অ্যালকোহল এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ডিপ্রেসেন্ট জাতীয় ঔষধ গ্রহণের বিষয়ে সতর্ক করা উচিত।

বিষাক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে এভিল হ্যালুসিনোজেনিক হতে পারে। অ্যান্টিহিস্টামিনের সম্ভাব্য স্নায়বিক উদ্দীপক প্রভাবের কারণে, এই ঔষধটির অপব্যবহারের (Abuse) সম্ভাবনা রয়েছে।

ফেনিরামিনের অ্যান্টিকোলিনার্জিক প্রভাবের কারণে, প্রোস্ট্যাটিক হাইপারট্রফি, ন্যারো-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা, হাঁপানি বা গুরুতর কার্ডিওভাসকুলার রোগের মতো অবস্থার রোগীদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা হলে সতর্কতা এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

ফেনিরামিনের বমি-নিরোধক প্রভাব অন্যান্য রোগের লক্ষণগুলোকে আড়াল করতে পারে। ফেনিরামিন যুক্ত ঔষধ খালি পেটে খাওয়া উচিত নয়।

মাত্রাধিক্যতা

লক্ষণসমূহ: বিষাক্ত মাত্রায় অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ঔষধ কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে উত্তেজনা এবং অবদমনের জটিল প্রভাব তৈরি করে। ছোট বাচ্চাদের দুর্ঘটনাবশত গিলে ফেলার ফলে খিঁচুনি এবং কখনো কখনো মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

ব্যবস্থাপনা: যেহেতু এর কোনো সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিডোট (বিষনাশক) নেই, তাই লক্ষণ অনুযায়ী এবং সহায়ক চিকিৎসা প্রদান করতে হবে। ঔষধ গিলে ফেলার সাথে সাথেই কেবল বমি করানোর চেষ্টা করা যেতে পারে, কারণ শোষিত অ্যান্টিহিস্টামিনের প্রভাবে যে তন্দ্রাচ্ছন্নতা তৈরি হয়, তা বমির সময় ফুসফুসে খাবার চলে যাওয়ার মতো প্রাণঘাতী অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। পাকস্থলী খালি করার প্রক্রিয়া ধীর হওয়ার কারণে ঔষধ খাওয়ার কিছুক্ষণ পর পর্যন্ত গ্যাস্ট্রিক লেভাজ উপকারী হতে পারে। খিঁচুনি শুরু হতে পারে তাই উদ্দীপক (Stimulants) ব্যবহার করা উচিত নয়। খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে ডায়াজেপাম বা শর্ট-অ্যাক্টিং বারবিচুরেটস ব্যবহার করা যেতে পারে। নিম্ন রক্তচাপের চিকিৎসায় ভাসোপ্রেসার ব্যবহার করা যেতে পারে। শ্বাস-প্রশ্বাস মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হলে মেকানিক্যাল সাপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে। হার্টে বিষক্রিয়া দেখা দিলে একটানা ইসিজি (ECG) মনিটরিং করার পরামর্শ দেওয়া হয়, যার চিকিৎসা ফাইসোস্টিগমিন-এর মতো সেন্ট্রালি-অ্যাক্টিং অ্যান্টিকোলিনস্টেরেজ দিয়ে করা যেতে পারে।

থেরাপিউটিক ক্লাস

Sedating Anti-histamine

সংরক্ষণ

আলো থেকে দূরে, একটি ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন। মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখের পরে ব্যবহার করবেন না। সমস্ত ঔষধ শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। কেবল একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) অনুযায়ী এটি বিক্রয়যোগ্য।
Pack Image of Avil 15 mg/5 ml Syrup Pack Image: Avil 15 mg/5 ml Syrup
Thanks for using MedEx!
How would you rate your experience so far?