নির্দেশনা

আরসোডিঅক্সিকলিক এসিড নিচের রোগগুলোর চিকিৎসায় নির্দেশিত:
  • পিত্তরোধ বা কোলেস্টেসিস (জন্ডিস)
  • ভাইরাল হেপাটাইটিস
  • অ্যালকোহলজনিত ফ্যাটি লিভার
  • প্রাইমারি বিলিয়ারি সিরোসিস
  • প্রাইমারি স্ক্লেরোজিং কোলাঞ্জাইটিস
  • পিত্তথলির পাথর গলানো এবং নন-অ্যালকোহলিক স্টিয়াটো হেপাটাইটিস।

ফার্মাকোলজি

পিত্তের কোলেস্টেরল সম্পৃক্ততা কমাতে এবং পিত্তথলির পাথর গলাতে আরসোডিঅক্সিকলিক এসিড ব্যবহৃত হয়। এটি পিত্তে কোলেস্টেরলের সম্পৃক্ততা হ্রাস করে, যার ফলে কোলেস্টেরল দ্বারা তৈরি পিত্তথলির পাথর ধীরে ধীরে গলে যায়। আরসোডিঅক্সিকলিক এসিড চিকিৎসার সময় ফসফোলিপিড না কমিয়েই পিত্তে কোলেস্টেরল নিঃসরণের হার কমায় এবং পিত্ত অ্যাসিড নিঃসরণের হার বাড়িয়ে দেয়। 

আরসোডিঅক্সিকলিক এসিড হলো প্রাকৃতিকভাবে তৈরি একটি পিত্ত অ্যাসিড, যা যকৃৎ ও পিত্ততন্ত্রের বিভিন্ন ব্যাধির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি পিত্তে কোলেস্টেরল নিঃসরণ কমিয়ে কাজ করে। আরসোডিঅক্সিকলিক এসিড কয়েকটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটি সম্পন্ন করে: এটি কোলেস্টেরল শোষণ কমায় এবং যকৃতে কোলেস্টেরল তৈরি হওয়া দমন করে, তবে এটি পিত্ত অ্যাসিডের স্বাভাবিক উৎপাদনে বাধা দেয় না।

ফলে, এটি পিত্তের উপাদানকে অতি-সম্পৃক্ত থেকে অসম্পৃক্ততে রূপান্তর করে। আরসোডিঅক্সিকলিক এসিড তরল কোলেস্টেরল ক্রিস্টাল কমপ্লেক্স গঠনেও সাহায্য করে, যা পিত্তথলি থেকে কোলেস্টেরলকে অন্ত্রে পাঠিয়ে শরীর থেকে বের করে দিতে ভূমিকা রাখে। এটি নিম্নলিখিত উপায়ে কোলেস্ট্যাটিক লিভারের রোগগুলোর উন্নতি ঘটায়-
  • হাইড্রোফোবিক পিত্ত অ্যাসিডের বিষাক্ততা থেকে কোলাঞ্জিওসাইটকে (পিত্তনালীর কোষ) রক্ষা করে।
  • হেপাটোবিলিয়ারি বা যকৃৎ ও পিত্তের নিঃসরণকে উদ্দীপিত করে।
  • পিত্ত অ্যাসিডজনিত অ্যাপোপটোসিস (কোষের অকাল মৃত্যু) থেকে হেপাটোসাইটকে (যকৃতের কোষ) রক্ষা করে।
আরসোডিঅক্সিকলিক এসিড অন্ত্রের উপরিভাগে সম্পূর্ণভাবে শোষিত হয়। রক্তে এর সর্বোচ্চ ঘনত্বে পৌঁছানোর সময় ৩০ থেকে ১৫০ মিনিট পর্যন্ত হতে পারে। এর শোষণের হার ৬০-৮০%। শোষিত হওয়ার পর এটি পোর্টাল শিরার মাধ্যমে যকৃতে প্রবেশ করে এবং সেখানে অ্যামিনো অ্যাসিডের (গ্লাইসিন অথবা টাউরিন) সাথে যুক্ত হয়ে হেপাটিক পিত্তনালীতে নিঃসৃত হয়। সামান্য পরিমানে আরসোডিঅক্সিকলিক এসিড রক্ত সঞ্চালনে প্রবেশ করে এবং খুব কম পরিমাণ প্রস্রাবের মাধ্যমে নির্গত হয়। এর বায়োলজিক্যাল হাফ-লাইফ বা অর্ধায়ু ৩.৫ থেকে ৫.৮ দিন।

মাত্রা ও সেবনবিধি

পিত্তথলির পাথর গলানো: দৈনিক ৮-১২ মি.গ্রা./কেজি (শরীরের ওজন অনুযায়ী), যা রাতে একবারে অথবা বিভক্ত মাত্রায় সেবন করা যায়।

প্রাইমারি বিলিয়ারি সিরোসিস: দৈনিক ১০-১৫ মি.গ্রা./কেজি, ২-৪ টি বিভক্ত মাত্রায়।

তীব্র ভাইরাল হেপাটাইটিস: দৈনিক ৬০০ মি.গ্রা.।

অ্যালকোহলজনিত ফ্যাটি লিভার: দৈনিক ৩০০ মি.গ্রা.।

প্রাইমারি স্ক্লেরোজিং কোলাঞ্জাইটিস: দৈনিক ২৫-৩০ মি.গ্রা./কেজি।

নন-অ্যালকোহলিক স্টিয়াটো হেপাটাইটিস: দৈনিক ১৩-১৫ মি.গ্রা./কেজি।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

যেসব ওষুধ পিত্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় (যেমন: ইস্ট্রোজেনিক হরমোন বা জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি), সেগুলোর সাথে আরসোডিঅক্সিকলিক এসিড ব্যবহার করা উচিত নয়। পিত্ত-অ্যাসিড বাইন্ডিং ওষুধ যেমন: অ্যান্টাসিড, চারকোল এবং কোলেস্টাইরামিন-এর সাথে একই সময়ে এটি সেবন করা এড়িয়ে চলতে হবে, কারণ এগুলো আরসোডিঅক্সিকলিক এসিডের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।

প্রতিনির্দেশনা

অকার্যকর পিত্তথলি, ক্যালসিয়ামযুক্ত এবং রঞ্জক পদার্থযুক্ত পিত্তথলির পাথর এবং অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ থাকলে আরসোডিঅক্সিকলিক এসিড ব্যবহার করা যাবে না।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

সাধারণত যেসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় সেগুলো হলো- বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, পিত্তপাথরের অস্বচ্ছতা এবং চুলকানি।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

এটি প্রেগন্যান্সি ক্যাটাগরি 'B' ভুক্ত ওষুধ। গর্ভাবস্থায় এর কোনো ক্ষতিকর প্রভাবের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই এটি সফলভাবে গর্ভাবস্থাজনিত কোলেস্টেসিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়েছে। স্তন্যদানকালে মানুষের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারে কোনো সমস্যার কথা জানা যায়নি।

সতর্কতা

যাদের লিভার বা যকৃতের দীর্ঘমেয়াদী রোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত।

থেরাপিউটিক ক্লাস

Anti-gallstones drugs: Bile Acids

সংরক্ষণ

২৫° সেলসিয়াসের নিচে সংরক্ষণ করুন। আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। ওষুধ শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
Thanks for using MedEx!
How would you rate your experience so far?