নির্দেশনা

এই ইনজেকশনটি নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে নির্দেশিত:
  • টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত সকল রোগীর চিকিৎসায়।
  • টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত যেসব রোগীর রক্তে শর্করার মাত্রা কেবল খাদ্য নিয়ন্ত্রণ এবং/অথবা মুখে খাওয়ার ডায়াবেটিসের ওষুধ দ্বারা পর্যাপ্ত পরিমাণে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না, তাদের চিকিৎসায়।
  • ডায়াবেটিক কিটোএসিডোসিস এবং হাইপারঅসমোলার নন-কেটোটিক সিন্ড্রোমে আক্রান্ত রোগীদের ডায়াবেটিস প্রাথমিক অবস্থায় স্থিতিশীল করার জন্য।
  • ডায়াবেটিস রোগীদের তীব্র সংক্রমণ এবং বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের মতো মানসিক বা শারীরিক চাপের সময়ে।
  • গর্ভাবস্থাজনিত ডায়াবেটিসেরচিকিৎসায়।

ফার্মাকোলজি

ইনসুলিনের রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করা কমানোর ক্ষমতা মূলত পেশী এবং চর্বি কোষের ইনসুলিন রিসেপ্টরের সাথে যুক্ত হওয়ার পর গ্লুকোজ গ্রহণকে সহজতর করার মাধ্যমে ঘটে। একই সাথে এটি যকৃৎ থেকে গ্লুকোজের অতিরিক্ত নিঃসরণকে বাধা দেয়। রক্ত প্রবাহে ইনসুলিনের হাফ-লাইফ বা অর্ধায়ু মাত্র কয়েক মিনিট। এটি প্লাজমা প্রোটিনের সাথে শক্তভাবে যুক্ত হয় না।

ত্বকের নিচে ইনজেকশন দেওয়ার পর এর গড় কার্যকারিতার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
  • কার্যকারিতা শুরু: ৩০ মিনিটের মধ্যে।
  • সর্বোচ্চ কার্যকারিতার সময়: ১-৩ ঘণ্টার মধ্যে রক্তে এর মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
  • কার্যকারিতার মেয়াদ: প্রায় ১৮-২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

ঔষধের মাত্রা

ওষুধের মাত্রা রোগীদের ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।

টাইপ ১ ডায়াবেটিস: রক্ষণশীল চিকিৎসার জন্য দৈনিক ইনসুলিনের গড় চাহিদা সাধারণত ০.৫ থেকে ১.০ আইইউ/কেজি (শরীরের ওজনের প্রতি কেজিতে) হয়ে থাকে। বয়ঃসন্ধির পূর্ববর্তী শিশুদের ক্ষেত্রে এই চাহিদা সাধারণত ০.৭ থেকে ১.০ আইইউ/কেজি পর্যন্ত হতে পারে।

বিশেষ অবস্থা: যেসব রোগীর ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে (যেমন: বয়ঃসন্ধিকালীন সময়ে বা স্থূলতার কারণে), তাদের ক্ষেত্রে দৈনিক ইনসুলিনের চাহিদা বেশি হতে পারে। অন্যদিকে, যাদের শরীরে প্রাকৃতিকভাবে ইনসুলিন তৈরি হয় বা আংশিক উপশমের সময়কাল চলছে, তাদের ক্ষেত্রে এই চাহিদা কম হতে পারে।

টাইপ ২ ডায়াবেটিস: প্রাথমিক মাত্রা সাধারণত কম হয়ে থাকে, যেমন- দৈনিক ০.৩ থেকে ০.৬ আইইউ/কেজি।

ইনজেকশন দেওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে অবশ্যই শর্করা বা কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার বা নাস্তা গ্রহণ করতে হবে।

সেবনবিধি

প্রয়োগ পদ্ধতি: এটি সাধারণত পেটের দেওয়ালে ত্বকের নিচে প্রয়োগ করা হয়। তবে ঊরু, নিতম্ব বা বাহুর ডেল্টয়েড অংশেও এটি দেওয়া যেতে পারে। পেটের দেওয়ালে ইনজেকশন দিলে শরীরের অন্য অংশের তুলনায় দ্রুত শোষিত হয়। লাইপোডিস্ট্রফি (ত্বকের চর্বির ক্ষয় বা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি) এড়াতে প্রতিবার ইনজেকশন দেওয়ার স্থান পরিবর্তন করতে হবে।

মাত্রা সমন্বয়-
  • যেকোনো অসুস্থতা, বিশেষ করে সংক্রমণ এবং জ্বরজনিত অবস্থায় সাধারণত ইনসুলিনের চাহিদা বেড়ে যায়।
  • কিডনি বা যকৃতের অকার্যকারিতা থাকলে ইনসুলিনের চাহিদা কমে যেতে পারে।
  • শারীরিক পরিশ্রমের পরিবর্তন বা স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ঘটলে মাত্রা পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।
  • এক ধরণের ইনসুলিন থেকে অন্য ধরণের ইনসুলিনে পরিবর্তন করার সময় মাত্রা নতুন করে নির্ধারণ করার প্রয়োজন হতে পারে।
ব্যবহারের পূর্বে করণীয়-
  • নিশ্চিত হোন যে এটি সঠিক ধরণের ইনসুলিন।
  • সর্বদা রাবার প্লাঞ্জারসহ কার্টিজটি পরীক্ষা করে নিন।
  • সার্জিক্যাল স্পিরিট দিয়ে রাবারের মেমব্রেন বা মুখটি জীবাণুমুক্ত করে নিন।
যেসব ক্ষেত্রে ব্যবহার করবেন না-
  • যদি কার্টিজ বা কার্টিজযুক্ত ডিভাইসটি হাত থেকে পড়ে যায় বা ভেঙে যায়, তবে ইনসুলিন লিকেজ বা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
  • যদি এটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা না হয়ে থাকে বা জমে গিয়ে থাকে।
  • মেশানোর পর যদি এটি সম্পূর্ণ সমানভাবে সাদা এবং মেঘলা বা ঘোলাটে না দেখায়।
ইনসুলিন মেশানোর নিয়ম: কার্টিজটি ইনসুলিন ডেলিভারি সিস্টেমে (পেন) প্রবেশ করানোর আগে, এটিকে ধীরে ধীরে উপর-নিচ করুন যাতে ভেতরের কাঁচের বলটি কার্টিজের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত করতে পারে। প্রথমবার ব্যবহারের আগে অন্তত ২০ বার এবং প্রতিবার ইনজেকশন দেওয়ার আগে অন্তত ১০ বার এটি করুন। তরলটি সম্পূর্ণরূপে সমানভাবে সাদা এবং ঘোলাটে না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়াটি পুনরাবৃত্তি করতে হবে। মেশানো শেষ হলে দেরি না করে ইনজেকশন দেওয়ার পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন করুন। কার্টিজটি পেনের ভেতরে থাকলে পেনসহ একইভাবে অন্তত ১০ বার উপর-নিচ করুন।

ইনজেকশন দেওয়ার পদ্ধতি: ত্বকের নিচে ইনসুলিন প্রয়োগ করুন। ডেলিভারি সিস্টেমের ম্যানুয়ালে বর্ণিত নির্দেশিকা অনুসরণ করুন। পুরো ডোজটি শরীরে প্রবেশ করেছে তা নিশ্চিত করতে সুইটি ত্বকের নিচে অন্তত ৬ সেকেন্ড ধরে রাখুন। প্রতিবার ইনজেকশন দেওয়ার পর সুইটি খুলে ফেলে দিন। তা না হলে তাপমাত্রা পরিবর্তনের সাথে সাথে তরল বের হয়ে যেতে পারে এবং ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা পরিবর্তিত হতে পারে।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

অন্যান্য ওষুধের ব্যবহার ইনসুলিনের চাহিদাকে প্রভাবিত করতে পারে।
  • ইনসুলিনের চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে (হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়): মুখে খাওয়ার ডায়াবেটিসের ওষুধ, মোনোঅ্যামাইন অক্সিডেস ইনহিবিটরস, নন-সিলেক্টিভ বিটা-ব্লকার্স, এসিই ইনহিবিটরস, স্যালিসাইলেটস এবং অ্যালকোহল।
  • ইনসুলিনের চাহিদা বাড়িয়ে দিতে পারে (রক্তে শর্করা বৃদ্ধি করে): থায়াজাইডস, গ্লুকোকোর্টিকয়েডস, থাইরয়েড হরমোন, বিটা-সিমপ্যাথোমাইমেটিকস, গ্রোথ হরমোন এবং ডানাজল।
  • বিটা-ব্লকার ওষুধগুলো হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণগুলোকে লুকিয়ে রাখতে পারে এবং হাইপোগ্লাইসেমিয়া থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে দেরি করাতে পারে। অকট্রিওটাইড/ল্যানরিওটাইড ইনসুলিনের চাহিদা বাড়াতে বা কমাতে-উভয়ই করতে পারে। অ্যালকোহল ইনসুলিনের রক্তে শর্করা কমানোর ক্ষমতাকে তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে।

প্রতিনির্দেশনা

হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত কমে যাওয়া) থাকলে এবং হিউম্যান ইনসুলিন বা এই ওষুধের যেকোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা থাকলে এটি কোনোভাবেই ব্যবহার করা যাবে না।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

হিউম্যান ইনসুলিন ব্যবহারের ফলে যেসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়, তা মূলত এর ডোজ বা মাত্রার ওপর নির্ভরশীল।
  • হাইপোগ্লাইসেমিয়া: অন্যান্য ইনসুলিনের মতো হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা রক্তে শর্করা কমে যাওয়া এর সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। ইনসুলিনের চাহিদা বা খাদ্যের তুলনায় ডোজ বেশি হলে এটি ঘটতে পারে।
  • স্থানীয় প্রতিক্রিয়া: নির্দিষ্ট স্থানে বারবার ইনজেকশন দিলে লাইপোডিস্ট্রফি হতে পারে।
  • অতিসংবেদনশীলতা: তীব্র বা সামগ্রিক অ্যালার্জির লক্ষণের মধ্যে রয়েছে সারা শরীরে ফুসকুড়ি, চুলকানি, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, অ্যানজিওনিউরেটিক ইডিমা (তীব্র ফোলাভাব), শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা এবং রক্তচাপ কমে যাওয়া। এই ধরনের তীব্র অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া জীবননাশের কারণ হতে পারে। ইনসুলিন চিকিৎসা শুরুর দিকে সাময়িকভাবে হাত-পায়ে পানি আসতে পারে।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় ইনসুলিন দিয়ে ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় কোনো বাধা নেই, কারণ ইনসুলিন প্ল্যাসেন্টা বা গর্ভফুল পার হয়ে শিশুর শরীরে প্রবেশ করতে পারে না। তবে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে সৃষ্ট হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা হাইপারগ্লাইসেমিয়া উভয়ই গর্ভস্থ শিশুর বিকলাঙ্গতা এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে ইনসুলিনের চাহিদা সাধারণত কমে যায় এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় তিন মাসে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। সন্তান প্রসবের পর ইনসুলিনের চাহিদা দ্রুত গর্ভাবস্থার আগের অবস্থায় ফিরে আসে।

স্তন্যদানকাল: স্তন্যদানকারী মায়ের ইনসুলিন চিকিৎসায় শিশুর কোনো ঝুঁকি নেই। তবে ইনসুলিনের মাত্রা এবং খাদ্যাভ্যাস নতুন করে সমন্বয় করার প্রয়োজন হতে পারে।

সতর্কতা

অপর্যাপ্ত মাত্রা বা চিকিৎসা হঠাৎ বন্ধ করে দিলে (বিশেষ করে টাইপ ১ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে) হাইপারগ্লাইসেমিয়া (রক্তে অতিরিক্ত শর্করা) হতে পারে। টাইপ ১ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে এর চিকিৎসা না করা হলে তা ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসে রূপ নিতে পারে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রাণঘাতী হতে পারে।

কোনো রোগীকে এক ধরণের ইনসুলিন থেকে অন্য ব্র্যান্ড বা ধরণের ইনসুলিনে পরিবর্তন করার কাজটি অবশ্যই চিকিৎসকের কঠোর তত্ত্বাবধানে করতে হবে। শক্তি, ব্র্যান্ড, ধরণ (দ্রুত কার্যকরী, দীর্ঘমেয়াদী ইত্যাদি) বা উৎপাদন পদ্ধতির পরিবর্তনের কারণে ডোজ পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।

ভিন্ন টাইম জোনে ভ্রমণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ এর ফলে ইনসুলিন নেওয়া এবং খাবার গ্রহণের সময় পরিবর্তিত হতে পারে।

সতর্কতা: ইনসুলিন মেশানোর পর যদি ভেতরে কোনো দলা বা দানা দেখা যায় কিংবা বোতল বা কার্টিজের গায়ে সাদা কণা আটকে থাকে, তবে সেই ইনসুলিন কোনোভাবেই ব্যবহার করা যাবে না।

মাত্রাধিক্যতা

ইনসুলিনের অতিরিক্ত মাত্রার কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। তবে অতিরিক্ত মাত্রার কারণে হাইপোগ্লাইসেমিয়া নিচের ধাপ অনুযায়ী তৈরি হতে পারে:
  • মৃদু হাইপোগ্লাইসেমিয়া: রোগীকে মুখে চিনি, গ্লুকোজ বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খাইয়ে এর চিকিৎসা করা সম্ভব।
  • তীব্র হাইপোগ্লাইসেমিয়া: রোগী যদি অজ্ঞান হয়ে যান, তবে প্রশিক্ষিত ব্যক্তি দ্বারা ত্বকের নিচে বা পেশীতে গ্লুকাগন (০.৫ থেকে ১ মি.গ্রা.) ইনজেকশন দেওয়া যেতে পারে অথবা হাসপাতালে শিরায় গ্লুকোজ দিতে হবে। গ্লুকাগন দেওয়ার ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে রোগীর জ্ঞান না ফিরলে অবশ্যই শিরায় গ্লুকোজ দিতে হবে। রোগী জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর পুনরায় রক্তে শর্করা কমে যাওয়া প্রতিরোধ করতে মুখে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাযুক্ত খাবার খাওয়াতে হবে।

সংরক্ষণ

ইনসুলিন অবশ্যই ২° থেকে ৮° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় (রেফ্রিজারেটরের নরমাল চেম্বারে) সংরক্ষণ করতে হবে। কোনোভাবেই ফ্রিজারে জমিয়ে ফেলা যাবে না এবং জমে যাওয়া ইনসুলিন ব্যবহার করা নিষেধ। আলো থেকে সুরক্ষার জন্য কার্টিজ বা ভায়ালটি বাইরের কাগজের কার্টনে রাখুন। অতিরিক্ত গরম বা সরাসরি সূর্যের আলো থেকে দূরে রাখুন। ব্যবহারের সময় কার্টিজটি ফ্রিজে রাখার প্রয়োজন নেই। ব্যবহারের শুরুতে ২৫° সেলসিয়াসের নিচে থাকলে সর্বোচ্চ ৬ সপ্তাহ এবং ৩০° সেলসিয়াসের নিচে থাকলে সর্বোচ্চ ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত এটি ভালো থাকে। ব্যবহারের আগে দুই হাতের তালুর মাঝে রেখে ধীরে ধীরে ঘুরিয়ে ইনসুলিন ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
Pack Image of Insuman Comb 25%+75% in 100 IU/ml Injection Pack Image: Insuman Comb 25%+75% in 100 IU/ml Injection
Thanks for using MedEx!
How would you rate your experience so far?