Unit Price: ৳ 25.00 (3 x 10: ৳ 750.00)
Strip Price: ৳ 250.00
Antibiotic
Do not use without prescription
of a registered physician

নির্দেশনা

মিনোসাইক্লিন মুখে সেবনের জন্য নির্দেশিত। এটি টেট্রাসাইক্লিন-সংবেদনশীল জীবাণু এবং স্ট্যাফাইলোকক্কাই-এর কিছু টেট্রাসাইক্লিন-প্রতিরোধী স্ট্রেইনের কারণে সৃষ্ট সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

প্রধান নির্দেশনাসমূহ: ব্রন (Acne), ত্বক ও নরম কলার সংক্রমণ (Skin and soft tissue infections), চোখের সংক্রমণ, তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কাইটিস, ব্রঙ্কিয়েক্টেসিস, ফুসফুসের ফোড়া (Lung abscess), কান, নাক ও গলার সংক্রমণ, পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (PID), নোকার্ডিওসিস, মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI), গনোরিয়া, নন-গনোকোক্কাল ইউরেথ্রাইটিস এবং প্রোস্টাটাইটিস।

এটি লক্ষণহীন মেনিনগোকোক্কাল বাহকদের (Asymptomatic meningococcal carriers) প্রতিরোধমূলক চিকিৎসায় এবং অস্ত্রোপচারের আগে ও পরের সংক্রমণ প্রতিরোধেও (Pre- and post-operative prophylaxis) ব্যবহৃত হতে পারে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে ব্যবহার: প্রতিদিন ২০০ মি.গ্রা., যা বিভক্ত মাত্রায় সেবন করতে হয়।

ব্রন: ৫০ মি.গ্রা. করে দিনে দুই বার, কমপক্ষে ৬ সপ্তাহ।

গনোরিয়া: পুরুষ: শুরুতে ২০০ মি.গ্রা., এরপর প্রতি ১২ ঘন্টা পর পর ১০০ মি.গ্রা. করে কমপক্ষে ৪ দিন। চিকিৎসা শেষের ২-৩ দিনের মধ্যে কালচার পরীক্ষা করতে হবে। নারী: আরও দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

লক্ষণহীন মেনিনগোকোক্কাল বাহকদের প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা: ১০০ মি.গ্রা. করে দিনে দুই বার মোট ৫ দিন, যার পর রিফাম্পিসিন (Rifampicin) দিয়ে চিকিৎসা করতে হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: যদি ৬ মাস ব্যবহারের পরেও সন্তোষজনক ফলাফল না পাওয়া যায়, তবে মিনোসাইক্লিন বন্ধ করে অন্যান্য চিকিৎসার কথা বিবেচনা করা উচিত। যদি চিকিৎসা ৬ মাসের বেশি সময় ধরে চালিয়ে যেতে হয়, তবে রোগীকে প্রতি ৩ মাস পর পর হেপাটাইটিস বা এসএলই (SLE)-এর লক্ষণ ও উপসর্গের জন্য পরীক্ষা/পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্টস (রক্ত পাতলা করার ঔষধ): টেট্রাসাইক্লিন রক্তে প্রোথ্রোমবিন অ্যাক্টিভিটি কমিয়ে দেয়। তাই একসাথে অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্টস ব্যবহার করলে তার মাত্রা কমানোর প্রয়োজন হতে পারে।

এসিই ইনহিবিটরস, অ্যান্টাসিড এবং শোষক পদার্থ: টেট্রাসাইক্লিন দ্বি-যোজী বা ত্রি-যোজী ক্যাটায়নের সাথে যুক্ত হয়। আয়রন, ক্যালসিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, বিসমাথ এবং জিঙ্ক লবণের (যেমন অ্যান্টাসিড, কাওলিন, বিসমাথযুক্ত আলসারের ঔষধ, ম্যাগনেসিয়াম কার্বোনেট যুক্ত কুইনাপ্রিল) সাথে একত্রে সেবন করলে পরিপাকতন্ত্র থেকে এই ঔষধের শোষণ ব্যাহত হয়। তাই এগুলো সেবনের মধ্যে সর্বোচ্চ সময়ের ব্যবধান রাখা উচিত। তবে খাদ্য, দুধ বা দুগ্ধজাতীয় খাবার দ্বারা মিনোসাইক্লিনের শোষণ উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হয় না।

ডাইইউরেটিক্স (মূত্রবর্ধক): ডাইইউরেটিক্স শরীরের তরল কমিয়ে দিয়ে কিডনির ক্ষতি বা নেফ্রোটক্সিসিটি বাড়িয়ে দিতে পারে।

অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল: মিনোসাইক্লিন পেনিসিলিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে ব্যবহার করা উচিত নয়।

আরগোটামিন ও আরগোমেট্রিন: আরগোটিজম (Ergotism - এক ধরণের বিষক্রিয়া) হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

মুখে খাওয়ার জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি: উভয় ঔষধই ত্বকে অতিরিক্ত পিগমেন্টেশন বা কালো দাগ তৈরি করতে পারে।

রেটিনয়েডস: মিনোসাইক্লিন থেরাপির ঠিক আগে, চলাকালীন এবং ঠিক পরে আইসোট্রেটিনয়িন (Isotretinoin) ব্যবহার এড়িয়ে চলতে হবে।

প্রতিনির্দেশনা

টেট্রাসাইক্লিন জাতীয় ঔষধের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা, সিস্টেমিক লুপাস ইরাইথেমাটোসাস, গর্ভাবস্থা, স্তন্যদানকাল, কিডনি বিকল হওয়া এবং ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে মিনোসাইক্লিন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

মুখ ও অ্যানোজেনিটাল অঞ্চলের ক্যান্ডিডিয়াসিস, ভালভোভাজিনাইটিস, রক্তকণিকার তারতম্য (যেমন- ইওসিনোফিলিয়া, লিউকোপেনিয়া, নিউট্রোপেনিয়া, থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া, হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া, প্যানসাইটোপেনিয়া, অ্যাগ্রানুলোসাইটোসিস), অ্যানাফিল্যাক্সিস বা মারাত্মক অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া, ফুসফুসের সমস্যা, ক্ষুধামন্দা, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, ইন্ট্রাক্রেনিয়াল হাইপারটেনশন (মাথার ভেতরে চাপ বৃদ্ধি), খিঁচুনি, শ্রবণশক্তি হ্রাস, কানের ভেতর ভোঁ-ভোঁ শব্দ হওয়া (Tinnitus), মায়োকার্ডাইটিস, পেরিকার্ডাইটিস, কাশি, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি বেড়ে যাওয়া, ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, বমি, দাঁতের রঙ পরিবর্তন, অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ (Pancreatitis), জন্ডিস, লিভারের ক্ষতি বা হেপাটাইটিস, চুল পড়ে যাওয়া, ত্বকে ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ, ফটোসেন্সিটিভিটি (আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা), জয়েন্টে ব্যথা ও শক্ত ভাব, তীব্র কিডনি বিকল হওয়া (Acute renal failure) এবং জ্বর ইত্যাদি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই জটিল সিন্ড্রোমগুলোর কারণে মৃত্যুর রিপোর্টও পাওয়া গেছে।

ত্বক ও অঙ্গের রঙ পরিবর্তন: ত্বক, নখ, দাঁত, মুখের ভেতরের অংশ, হাড়, থাইরয়েড, চোখ (স্ক্লেরা ও কনজেক্টিভা), বুকের দুধ, চোখের জল এবং ঘামে নীল/কালো/ধূসর বা কাদাটে-বাদামী রঙের পিগমেন্টেশন হতে পারে। ঔষধ বন্ধ করলে সাধারণত কয়েক মাসের মধ্যে এই দাগ চলে যায়, তবে কিছু ক্ষেত্রে বা সূর্যের আলোতে উন্মুক্ত স্থানে এই দাগ স্থায়ী হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থায় এবং স্তন্যদানকালে মিনোসাইক্লিন ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। প্রাণীজ গবেষণায় দেখা গেছে যে টেট্রাসাইক্লিন প্ল্যাসেন্টা বা গর্ভফুল ভেদ করে ভ্রূণের টিস্যুতে প্রবেশ করে এবং ভ্রূণের হাড়ের গঠনে বাধা সৃষ্টিসহ বিষাক্ত প্রভাব ফেলতে পারে। গর্ভাবস্থার শেষ অর্ধেকের দিকে (যখন শিশুর দাঁত গঠিত হয়) এটি ব্যবহার করলে দাঁতের রঙ স্থায়ীভাবে পরিবর্তন হতে পারে এবং এনামেল হাইপোপ্লাসিয়া হতে পারে। স্তন্যদানকারী মায়েদের দুধে টেট্রাসাইক্লিন পাওয়া গেছে, যা শিশুর দাঁতের স্থায়ী রঙ পরিবর্তন এবং এনামেল গঠনে ত্রুটি ঘটাতে পারে।

সতর্কতা

শ্বাসকষ্ট: মিনোসাইক্লিন ব্যবহারের ফলে শ্বাসকষ্ট, ব্রঙ্কোস্পাজম, হাঁপানি বেড়ে যাওয়া বা নিউমোনাইটিসের মতো সমস্যা হতে পারে। এমন হলে জরুরি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং ঔষধ বন্ধ করতে হবে।

শিশু ও কিশোর: টেট্রাসাইক্লিন হাড় গঠনকারী টিস্যুতে ক্যালসিয়ামের সাথে জটিল যৌগ তৈরি করে। অকালজাত শিশুদের ক্ষেত্রে এটি পায়ের হাড়ের (Fibula) বৃদ্ধির গতি কমিয়ে দেয়। এটি শিশুর দাঁতের রঙ হলুদ বা বাদামী করে দিতে পারে। তাই ১২ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে এটি নির্দেশিত নয়।

যকৃতের কার্যকারিতা হ্রাস: লিভারের সমস্যা থাকলে বা লিভারের ক্ষতি করতে পারে এমন ঔষধ বা অ্যালকোহল সেবনের ক্ষেত্রে মিনোসাইক্লিন সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।

অটো-ইমিউন রোগ: এটি অটো-ইমিউন হেপাটোটক্সিসিটি এবং লুপাস (SLE) তৈরি করতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে ঔষধ বন্ধ করতে হবে।

ইন্ট্রাক্রেনিয়াল হাইপারটেনশন: মাথার ভেতরের চাপ বৃদ্ধির কারণে তীব্র মাথাব্যথা এবং দৃষ্টিশক্তির সমস্যা (ঝাপসা দেখা, দ্বৈত দৃষ্টি বা দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হওয়া) হতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসা বন্ধ করতে হবে।

ফটোসেন্সিটিভিটি: প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম সূর্যের আলো সরাসরি ত্বকে লাগলে ত্বকে অস্বস্তি বা সানবার্ন হতে পারে। প্রথম কোনো লক্ষণ দেখা দিলেই ঔষধ সেবন বন্ধ করতে হবে।

বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহার

কিডনি বিকলতায়: মৃদু থেকে মাঝারি কিডনির সমস্যায় প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রাই দেওয়া যায়। তবে গুরুতর কিডনি বিকলতার ক্ষেত্রে মাত্রা কমানো এবং কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে।

১২ বছরের বেশি বয়সী শিশু: প্রতি ১২ ঘন্টায় ৫০ মি.গ্রা.।

মাত্রাধিক্যতা

অতিরিক্ত মাত্রার ক্ষেত্রে সাধারণত মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব এবং বমি দেখা যায়। এর কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিডোট বা প্রতিষেধক নেই। পাকস্থলী পরিষ্কার এবং প্রয়োজনীয় লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা দিতে হবে। অ্যান্টাসিড এবং ক্যালসিয়াম লবণ মিনোসাইক্লিনের শোষণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। হেমোডায়ালাইসিস বা পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে শরীর থেকে এটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বের করা যায় না।

থেরাপিউটিক ক্লাস

Tetracycline group of drugs

সংরক্ষণ

আলো থেকে দূরে, ২৫°সে. এর নিচে ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন।
Thanks for using MedEx!
How would you rate your experience so far?