Unit Price: ৳ 10.00 (3 x 10: ৳ 300.00)
Strip Price: ৳ 100.00

নির্দেশনা

নারী বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায়: যেসকল নারী সন্তান ধারণে ইচ্ছুক কিন্তু ডিম্বস্ফোটন বা ওভুলেশন হয় না অথবা স্বাভাবিকের চেয়ে কম হয়, তাদের চিকিৎসায় ওভুক্লন নির্দেশিত। তবে শর্ত থাকে যে, তাদের যৌন সঙ্গীর বীর্যে পর্যাপ্ত শুক্রাণু থাকতে হবে এবং নারীর হাইপোথ্যালামাস-পিটুইটারি-ওভারিয়ান সিস্টেম ও শরীরে পর্যাপ্ত ইস্ট্রোজেন হরমোন কার্যক্ষম থাকতে হবে।

এছাড়া বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মাসিক বন্ধ থাকা, মানসিক চাপজনিত কারণে মাসিক বন্ধ থাকা, ওরাল পিল বন্ধ করার পর মাসিক না হওয়া এবং অজানা কারণে দীর্ঘদিন মাসিক বন্ধ থাকার চিকিৎসায় ওভুক্লন ব্যবহৃত হয়।

পুরুষ বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায়: যেসকল পুরুষের বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা কম এবং শুক্রাণুর নড়াচড়ার ক্ষমতা দুর্বল, তাদের বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণে ওভুক্লন ব্যবহৃত হয়।

ফার্মাকোলজি

ক্লোমিফেনের মূল কাজ হলো ইস্ট্রোজেন হরমোনের বিরুদ্ধে কাজ করা, তবে এর সামান্য ইস্ট্রোজেনিক প্রভাবও রয়েছে। এটি কীভাবে ওভুলেশন বা ডিম্বস্ফোটন ঘটায় তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, তবে ধারণা করা হয় এর অ্যান্টি-ইস্ট্রোজেনিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই এটি ঘটে। ক্লোমিফেন হাইপোথ্যালামাস স্তরে ইস্ট্রোজেনের সাথে প্রতিযোগিতা করে যুক্ত হয়, যার ফলে গোনাডোট্রপিন, ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন (FSH) এবং লিউটিনাইজিং হরমোন (LH) ক্ষরণ বেড়ে যায়। এর ফলে ডিম্বাশয়ের ফলিকল পরিপক্ব হয়, ওভুলেশনের ঠিক আগে LH হরমোনের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়, ডিম্বস্ফোটন ঘটে এবং পরবর্তীতে কর্পাস লিউটিয়াম গঠিত হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রেও FSH এবং LH ক্ষরণ বৃদ্ধির মাধ্যমেই এটি কার্যকারিতা দেখায়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

নারীদের ক্ষেত্রে:
  • দৈনিক ৫০ মিলিগ্রাম করে টানা ৫ দিন সেবন করতে হবে। মাসিক শুরু হওয়ার ২য় দিন থেকে ৫ম দিনের মধ্যে যেকোনো একদিন থেকে এই সেবন শুরু করা যায়। আর যদি রোগীর সম্প্রতি কোনো জরায়ু রক্তপাত বা মাসিক না হয়ে থাকে, তবে যেকোনো সময় এটি শুরু করা যেতে পারে।
  • পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS) এর মতো অতিরিক্ত সংবেদনশীল রোগীদের ক্ষেত্রে কম মাত্রা বা কম দিন সেবনের প্রয়োজন হতে পারে।
  • যদি ডিম্বস্ফোটন না হয়, তবে পরবর্তী কোর্সে মাত্রা বাড়িয়ে দৈনিক ৭৫ মিলিগ্রাম থেকে ১০০ মিলিগ্রাম করা হয় (টানা ৫ দিন)। পূর্ববর্তী কোর্স শেষ হওয়ার অন্তত ৩০ দিন পর পরবর্তী কোর্স শুরু করতে হবে।
  • সাধারণত ওভুলেশন হচ্ছে কি না তা বুঝতে ৩টি কোর্সই যথেষ্ট। ৩ কোর্স পরও ওভুলেশন না হলে পুনরায় রোগ নির্ণয়/পরীক্ষা করা উচিত।
  • যদি ওভুলেশন হয় কিন্তু গর্ভধারণ না হয়, তবে গর্ভধারণ না হওয়া পর্যন্ত বা সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৪টি সাইকেল একই নিয়মে চিকিৎসা চালানো যায়। মোট প্রায় ৬টি সাইকেল চিকিৎসার পরও যদি গর্ভধারণ না হয়, তবে আর ক্লোমিফেন সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয় না।
পুরুষদের ক্ষেত্রে: দৈনিক ২৫ মিলিগ্রাম করে একবার, সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত। প্রতি ২৫ দিন সেবনের পর ৫ দিনের বিরতি দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

হিমোডায়ালাইসিস রোগীদের ক্ষেত্রে: হিমোডায়ালাইসিসের কারণে রক্তে এই ঔষধের স্থায়িত্বকাল ২৫-৩০% কমে যায়। তাই নিয়মিত হিমোডায়ালাইসিস করা রোগীদের ক্ষেত্রে ডায়ালাইসিসের আগে ২৫০ মিলিগ্রাম থেকে ১ গ্রাম পর্যন্ত একটি লোডিং ডোজ দেওয়া হয়।

বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে: প্রাপ্তবয়স্কদের মতোই।

কার্যকারিতার সময়কাল: সাধারণত ঔষধের কোর্স শেষ হওয়ার ৪ থেকে ১০ দিন (গড়ে ৭ দিন) পর ওভুলেশন বা ডিম্বস্ফোটন ঘটে। তবে এই সময়কাল রোগী এবং মাসিক চক্রভেদে ভিন্ন হতে পারে। কিছু বিরল ক্ষেত্রে কোর্স শেষ হওয়ার ১৪ দিন পরেও ডিম্বস্ফোটন হতে পারে।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

ওভুক্লন সেবনের সময় অন্য কোনো ঔষধের সাথে ক্ষতিকর বিক্রিয়া বা ইন্টারঅ্যাকশনের কথা জানা যায়নি।

প্রতিনির্দেশনা

গর্ভাবস্থা, যকৃতের অকার্যকারিতা বা লিভারের সমস্যা, এবং অস্বাভাবিক জরায়ু রক্তপাত (যেমন: জরায়ুর টিউমার, ওভারিয়ান সিস্ট) থাকলে এই ঔষধ ব্যবহার করা যাবে না।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

অনুমোদিত মাত্রায় এই ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত খুব কম দেখা যায়। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার তীব্রতা ঔষধের মাত্রা এবং ব্যবহারের মেয়াদের ওপর নির্ভর করে এবং ঔষধ বন্ধ করলে সাধারণত এগুলো ঠিক হয়ে যায়।

সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশন (ডিম্বাশয় অতিরিক্ত উদ্দীপিত হওয়া), হঠাৎ শরীর গরম হয়ে যাওয়া, পেটে অস্বস্তি, বমি বমি ভাব, বমি, বিষণ্নতা, অনিদ্রা, স্তনে ব্যথা বা সংবেদনশীলতা, মাথাব্যথা, মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে রক্তবিন্দু দেখা যাওয়া, মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত, এন্ডোমেট্রিওসিস, খিঁচুনি, ওজন বৃদ্ধি, ত্বকে র‍্যাশ, মাথা ঘোরা এবং চুল পড়ে যাওয়া।

দৈনিক ১০০ মিলিগ্রামের বেশি মাত্রা ৫ দিন সেবন করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে; তাই এমন রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।

বন্ধ্যাত্বের ঔষধ ব্যবহারের ফলে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার হওয়ার কিছু বিরল রিপোর্ট রয়েছে, তবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো প্রমাণিত নয়, কারণ বন্ধ্যাত্ব নিজেই ক্যানসারের একটি প্রাথমিক ঝুঁকির কারণ।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থায় এই ঔষধ সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয় না। স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে ক্লোমিফেন সাইট্রেট বুকের দুধের উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে। তাই স্তন্যদানকালে এই ঔষধ এড়িয়ে চলা উচিত।

সতর্কতা

ক্লোমিফেন থেরাপির জন্য রোগীকে সতর্কতার সাথে নির্বাচনের পর কেবল চিকিৎসকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানেই এই ঔষধ সেবন করতে হবে।

চিকিৎসা শুরু করার আগে এবং পরবর্তী প্রতিটি কোর্স শুরু করার আগে সম্পূর্ণ শ্রোণীদেশ পরীক্ষা করা আবশ্যক, যাতে প্রতিটি সাইকেলের মাঝে গর্ভাবস্থা, ডিম্বাশয় বড় হয়ে যাওয়া বা ওভারিয়ান সিস্ট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বাদ দেওয়া যায়।

ক্লোমিফেন থেরাপির মাধ্যমে গর্ভধারণ করলে জমজ বা একাধিক সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

থেরাপিউটিক ক্লাস

Drugs for Infertility

সংরক্ষণ

৩০° সেলসিয়াসের নিচে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
Pack Image of Ovuclon 50 mg Tablet Pack Image: Ovuclon 50 mg Tablet
Thanks for using MedEx!
How would you rate your experience so far?