টিওট্রোপিয়াম

নির্দেশনা

টিওট্রোপিয়াম ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ এর সাথে সম্পর্কিত ব্রঙ্কোস্পাজম বা শ্বাসনালীর সংকোচনের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসায় নির্দেশিত; যার মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কাইটিস এবং এমফিসিমা-ও অন্তর্ভুক্ত।

ফার্মাকোলজি

টিওট্রোপিয়াম হলো একটি দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারী অ্যান্টিমাসকারিনিক এজেন্ট, যা সাধারণত অ্যান্টি কোলিনার্জিক ওষুধ নামে পরিচিত। মাসকারিনিক রিসেপ্টরের সাবটাইপগুলোর (M1 থেকে M5) প্রতি এর অভিন্ন আকর্ষণ রয়েছে। শ্বাসনালীতে এটি মসৃণ পেশির M3-রিসেপ্টরকে বাধা দেওয়ার মাধ্যমে কাজ করে, যা শ্বাসনালীকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে। মানুষের শরীর ও প্রাণীর রিসেপ্টর এবং পৃথক অঙ্গের ওপর পরীক্ষায় এর প্রতিযোগিতামূলক এবং রিভার্সিবল প্রতিরোধী কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে।

ক্লিনিক্যাল পূর্ববর্তী পরীক্ষাগার গবেষণায় দেখা গেছে যে, মেথাকোলিন-প্রেরিত ব্রঙ্কোকনস্ট্রিকশন (শ্বাসনালী সংকোচন) প্রতিরোধে এর কার্যকারিতা ডোজের ওপর নির্ভরশীল এবং তা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় স্থায়ী হয়। টিওট্রোপিয়াম ইনহেল করার পর শ্বাসনালী প্রসারণের এই প্রভাবটি মূলত একটি নির্দিষ্ট স্থান-ভিত্তিক কার্যকারিতা।

মাত্রা ও সেবনবিধি

১৮ বছরের ঊর্ধ্বের প্রাপ্তবয়স্ক: টিওট্রোপিয়াম ড্রাই পাউডার ইনহেলার ক্যাপসুলের প্রস্তাবিত ডোজ হলো প্রতিদিন একবার ১৮ মাইক্রোগ্রাম (১টি ক্যাপসুল), যা নির্দিষ্ট ডিভাইসের সাহায্যে গ্রহণ করতে হবে।

টিওট্রোপিয়াম ড্রাই পাউডার ইনহেলার ক্যাপসুলের ভেতরের উপাদানগুলো শুধুমাত্র মুখের মাধ্যমে শ্বাস নিয়ে গ্রহণের জন্য এবং এটি অবশ্যই নির্দিষ্ট ডিভাইসের সাথেই ব্যবহার করতে হবে।

বয়স্ক রোগী, লিভারের সমস্যা বা কিডনির সমস্যাযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে কোনো ডোজ সমন্বয় বা পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। তবে, মাঝারি থেকে তীব্র কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে টিওট্রোপিয়াম ক্যাপসুল দেওয়ার পর অ্যান্টি কোলিনার্জিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোর ওপর নিবিড় নজর রাখতে হবে।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

টিওট্রোপিয়াম (১৫ মিনিটে ১৪.৪ মাইক্রোগ্রাম ইন্ট্রাভেনাস ইনফিউশন) এবং দিনে তিনবার সিমেটিডিন ৪০০ মিলিগ্রাম অথবা দিনে একবার রানিটিডিন ৩০০ মিলিগ্রামের একটি যৌথ গবেষণা চালানো হয়েছিল। টিওট্রোপিয়ামের সাথে সিমেটিডিন একত্রে ব্যবহারের ফলে টিওট্রোপিয়াম এর AUC ০-৪ ঘণ্টা ২০% বৃদ্ধি পায়, কিডনির মাধ্যমে এর নিঃসরণ ২৮% হ্রাস পায় এবং Cmax ও ৯৬ ঘণ্টায় প্রস্রাবের মাধ্যমে নির্গত পরিমাণের কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না। তবে রানিটিডিনের সাথে টিওট্রোপিয়াম একত্রে ব্যবহারে এর ফার্মাকোকিনেটিক্সের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।

প্রতিনির্দেশনা

যাদের অ্যাট্রোপিন বা এর ডেরিভেটিভস (যেমন- ইপ্রাট্রোপিয়াম) অথবা এই ওষুধের যেকোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা বা অ্যালার্জির ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে টিওট্রোপিয়াম ব্যবহার করা যাবে না।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

সবচেয়ে বেশি রিপোর্ট করা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো মুখ শুকিয়ে যাওয়া। মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যাটি সাধারণত মৃদু প্রকৃতির হয়ে থাকে এবং চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে প্রায়ই ঠিক হয়ে যায়।

ব্যক্তি বিশেষে দেখা দেওয়া অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যা সম্ভাব্য অ্যান্টি কোলিনার্জিক প্রভাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেগুলো হলো- কোষ্ঠকাঠিন্য, হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পাওয়া, ঝাপসা দৃষ্টি, গ্লুকোমা, প্রস্রাব করতে অসুবিধা হওয়া এবং প্রস্রাব আটকে যাওয়া।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

প্রেগন্যেন্সি ক্যাটাগরি C: গর্ভবতী নারীদের ওপর টিওট্রোপিয়ামের কোনো পর্যাপ্ত এবং সুনিয়ন্ত্রিত গবেষণা নেই। গর্ভাবস্থায় এটি কেবল তখনই ব্যবহার করা উচিত, যখন এর সম্ভাব্য সুবিধা ভ্রূণের সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য বা যুক্তিসঙ্গত হয়। প্রসবের সময়  টিওট্রোপিয়ামের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিয়ে কোনো গবেষণা করা হয়নি।

সতর্কতা

একটি অ্যান্টি কোলিনার্জিক ড্রাগ হওয়ার কারণে, টিওট্রোপিয়াম ন্যারো-এঙ্গেল গ্লুকোমা, প্রোস্টেটের বৃদ্ধি বা মূত্রথলির মুখে বাধা-জনিত লক্ষণ বা উপসর্গগুলোকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই এ ধরণের সমস্যা থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে এটি সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত।

মাত্রাধিক্যতা

টিওট্রোপিয়াম অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণের ফলে অ্যান্টি কোলিনার্জিক লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে, ৬ জন সুস্থ স্বেচ্ছাসেবকের ওপর একটি গবেষণায় একক ডোজে সর্বোচ্চ ২৮২ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত টিওট্রোপিয়াম ইনহেল করার পরেও কোনো সিস্টেমিক অ্যান্টি কোলিনার্জিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। ১২ জন সুস্থ স্বেচ্ছাসেবকের ওপর করা অন্য একটি গবেষণায়, প্রতিদিন একবার করে ১৪১ মাইক্রোগ্রাম টিওট্রোপিয়াম বারবার ইনহেল করার পর দ্বিপাক্ষিক কনজেক্টিভাইটিস (চোখ ওঠা) এবং মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা গিয়েছিল।

থেরাপিউটিক ক্লাস

Anticholinergic bronchodilators

সংরক্ষণ

টিওট্রোপিয়াম ড্রাই পাউডার ইনহেলার ক্যাপসুল কোনোভাবেই গিলে খাওয়া যাবে না। সরাসরি সূর্যালোক বা গরমে রাখা থেকে বিরত থাকুন। ৩০° সেলসিয়াসের নিচে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
Thanks for using MedEx!
How would you rate your experience so far?