রিমেজিপ্যান্ট
নির্দেশনা
রিমেজিপ্যান্ট একটি ক্যালসিটোনিন জিন-সম্পর্কিত পেপটাইড রিসেপ্টর অ্যান্টাগনিস্ট। এটি প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে Aura সহ বা Aura বিহীন মাইগ্রেনের তীব্র বা হঠাৎ হওয়া আক্রমণের চিকিৎসায় এবং এপিসোডিক মাইগ্রেনের প্রতিরোধমূলক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
ফার্মাকোলজি
মাইগ্রেন হওয়ার বর্তমান গ্রহণযোগ্য তত্ত্ব অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের (বিশেষ করে ট্রাইজেমিনাল গ্যাংগ্লিয়ন) অস্বাভাবিক কার্যকারিতাকে এই সমস্যার মূল কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ট্রাইজেমিনাল গ্যাংগ্লিয়ন সক্রিয় হলে তা ট্রাইজেমিনাল অ্যাফারেন্টসমূহকে উদ্দীপিত করে, যা স্পাইনাল কর্ড বা মেরুদণ্ড পর্যন্ত পৌঁছায় এবং ডুরা ম্যাটার-এর মতো বিভিন্ন ব্যথা-সংবেদনশীল ইন্ট্রা- ও এক্সট্রাক্রানিয়াল কাঠামোর ওপর কাজ করে। এরপর এই ব্যথার সংকেতগুলো সেকেন্ড-অর্ডার অ্যাসেন্ডিং নিউরনের মাধ্যমে ব্রেনস্টেম, হাইপোথ্যালামাস এবং থ্যালামিক নিউক্লিতে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে মস্তিষ্কের বিভিন্ন কর্টিক্যাল অঞ্চলে (যেমন: শ্রবণ, দৃশ্যমান ও মোটর কর্টেক্স) ছড়িয়ে পড়ে। ট্রাইজেমিনাল গ্যাংগ্লিয়ন রক্তনালীর চারপাশের ফাইবারগুলো সক্রিয় করে এবং ব্যথা তৈরিকারী উপাদান যেমন- ক্যালসিটোনিন জিন-সম্পর্কিত পেপটাইড নিঃসরণ করে মাইগ্রেনের মাথাব্যথাকে আরও বাড়িয়ে ও টিকিয়ে রাখে।
CGRP-alpha-আইসোফর্ম প্রাথমিক সেন্সরি নিউরনে প্রকাশ পায়। এটি একটি শক্তিশালী ভাসোডিলেটর (রক্তনালী প্রসারক) এবং মাইগ্রেন তৈরিতে ভূমিকা রাখে। মাইগ্রেন আক্রমণের সময় CGRP-এর মাত্রা তীব্রভাবে বেড়ে যায় এবং ট্রিপটান জাতীয় ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসার পর তা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। মাইগ্রেন রোগীদের শরীরে শিরায় CGRP পুশ করার পর তাদের মাইগ্রেনের মতো মাথাব্যথা হতে দেখা গেছে। রক্তনালী প্রসারণের পাশাপাশি, CGRP একটি প্রোনোসিসেপ্টিভ ফ্যাক্টর হিসেবেও কাজ করে যা ব্যথার অনুভূতি বাড়াতে নিউরনের উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করে।
রিমেজিপ্যান্ট হলো এই ক্যালসিটোনিন জিন-সম্পর্কিত পেপটাইড (CGRP) রিসেপ্টরের একটি অ্যান্টাগনিস্ট। এটি CGRP-এর সাথে প্রতিযোগিতা করে এই রিসেপ্টরগুলো দখল করে নেয়, যার ফলে CGRP তার কাজ করতে পারে না। এটি মাইগ্রেনের মাথাব্যথা তীব্র হওয়া ও স্থায়ী হওয়া রোধ করে এবং চূড়ান্তভাবে মাথাব্যথা দূর করে।
CGRP-alpha-আইসোফর্ম প্রাথমিক সেন্সরি নিউরনে প্রকাশ পায়। এটি একটি শক্তিশালী ভাসোডিলেটর (রক্তনালী প্রসারক) এবং মাইগ্রেন তৈরিতে ভূমিকা রাখে। মাইগ্রেন আক্রমণের সময় CGRP-এর মাত্রা তীব্রভাবে বেড়ে যায় এবং ট্রিপটান জাতীয় ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসার পর তা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। মাইগ্রেন রোগীদের শরীরে শিরায় CGRP পুশ করার পর তাদের মাইগ্রেনের মতো মাথাব্যথা হতে দেখা গেছে। রক্তনালী প্রসারণের পাশাপাশি, CGRP একটি প্রোনোসিসেপ্টিভ ফ্যাক্টর হিসেবেও কাজ করে যা ব্যথার অনুভূতি বাড়াতে নিউরনের উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করে।
রিমেজিপ্যান্ট হলো এই ক্যালসিটোনিন জিন-সম্পর্কিত পেপটাইড (CGRP) রিসেপ্টরের একটি অ্যান্টাগনিস্ট। এটি CGRP-এর সাথে প্রতিযোগিতা করে এই রিসেপ্টরগুলো দখল করে নেয়, যার ফলে CGRP তার কাজ করতে পারে না। এটি মাইগ্রেনের মাথাব্যথা তীব্র হওয়া ও স্থায়ী হওয়া রোধ করে এবং চূড়ান্তভাবে মাথাব্যথা দূর করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাইগ্রেনের তীব্র আক্রমণের চিকিৎসায়: রিমেজিপ্যান্ট এর প্রস্তাবিত ডোজ হলো ৭৫ মিলিগ্রাম, যা প্রয়োজন অনুযায়ী মুখে সেবন করতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সর্বোচ্চ ডোজ হলো ৭৫ মিলিগ্রাম। ৩০ দিনের মধ্যে ১৮ বারের বেশি এই ওষুধ সেবনের নিরাপত্তা এখনও নিশ্চিত নয়।
এপিসোডিক মাইগ্রেনের প্রতিরোধমূলক চিকিৎসায়: রিমেজিপ্যান্ট এর প্রস্তাবিত ডোজ হলো ৭৫ মিলিগ্রাম, যা একদিন পর পর (এক দিন বাদ দিয়ে অন্য দিন) মুখে সেবন করতে হবে।
এপিসোডিক মাইগ্রেনের প্রতিরোধমূলক চিকিৎসায়: রিমেজিপ্যান্ট এর প্রস্তাবিত ডোজ হলো ৭৫ মিলিগ্রাম, যা একদিন পর পর (এক দিন বাদ দিয়ে অন্য দিন) মুখে সেবন করতে হবে।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
CYP3A4 ইনহিবিটরস: শক্তিশালী CYP3A4 ইনহিবিটরের সাথে রিমেজিপ্যান্ট একসঙ্গে সেবন করলে শরীরে রিমেজিপ্যান্টের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তাই শক্তিশালী CYP3A4 ইনহিবিটরের সাথে এটি সেবন করা পরিহার করুন। মাঝারি ধরনের CYP3A4 ইনহিবিটরের সাথে সেবন করলেও এর মাত্রা বাড়তে পারে। মাঝারি CYP3A4 ইনহিবিটরের সাথে রিমেজিপ্যান্ট সেবন করলে, পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রিমেজিপ্যান্টের আর কোনো ডোজ নেওয়া যাবে না।
CYP3A ইন্ডুসারস: শক্তিশালী বা মাঝারি CYP3A ইন্ডুসারের সাথে রিমেজিপ্যান্ট সেবন করলে শরীরে এর কার্যকারিতা বা উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে, যার ফলে ওষুধটি ঠিকমতো কাজ নাও করতে পারে। তাই এদের একসাথে সেবন করা পরিহার করুন।
P-gp ইনহিবিটরস: শক্তিশালী P-gp ইনহিবিটরের (যেমন: অ্যামিওডেরন, সাইক্লোস্পোরিন, ল্যাপাটিনিব, কুইনিডিন, র্যানোলাজিন) সাথে রিমেজিপ্যান্ট সেবন করলে শরীরে রিমেজিপ্যান্টের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেতে পারে। শক্তিশালী P-gp ইনহিবিটরের সাথে এটি সেবন করা হলে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রিমেজিপ্যান্টের আর কোনো ডোজ নেওয়া যাবে না।
CYP3A ইন্ডুসারস: শক্তিশালী বা মাঝারি CYP3A ইন্ডুসারের সাথে রিমেজিপ্যান্ট সেবন করলে শরীরে এর কার্যকারিতা বা উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে, যার ফলে ওষুধটি ঠিকমতো কাজ নাও করতে পারে। তাই এদের একসাথে সেবন করা পরিহার করুন।
P-gp ইনহিবিটরস: শক্তিশালী P-gp ইনহিবিটরের (যেমন: অ্যামিওডেরন, সাইক্লোস্পোরিন, ল্যাপাটিনিব, কুইনিডিন, র্যানোলাজিন) সাথে রিমেজিপ্যান্ট সেবন করলে শরীরে রিমেজিপ্যান্টের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেতে পারে। শক্তিশালী P-gp ইনহিবিটরের সাথে এটি সেবন করা হলে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রিমেজিপ্যান্টের আর কোনো ডোজ নেওয়া যাবে না।
প্রতিনির্দেশনা
রিমেজিপ্যান্ট ট্যাবলেট বা এর যেকোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা (অ্যালার্জি)-এর ইতিহাস থাকলে রোগীদের ক্ষেত্রে রিমেজিপ্যান্ট ব্যবহার করা নিষেধ।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
রিমেজিপ্যান্ট সেবনের পর শ্বাসকষ্ট এবং ফুসকুড়ি সহ অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। রিমেজিপ্যান্টের সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো হলো: বমি বমি ভাব, পেট ব্যথা এবং বদহজম।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে রিমেজিপ্যান্ট ব্যবহারের ফলে ভ্রূণের বিকাশে কোনো ঝুঁকি আছে কিনা সে বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। মানুষের মাতৃদুগ্ধে রিমেজিপ্যান্ট বা এর মেটাবোলাইটের উপস্থিতি, বুকের দুধ খাওয়ানো শিশুর ওপর এর প্রভাব বা দুধ উৎপাদনের ওপর এর কোনো প্রভাব রয়েছে কিনা সে সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সতর্কতা
ক্লিনিকাল স্টাডিতে রিমেজিপ্যান্ট সেবনের ফলে শ্বাসকষ্ট এবং ফুসকুড়ির মতো অতিসংবেদনশীলতা বা অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এই প্রতিক্রিয়াগুলো ওষুধ সেবনের কয়েকদিন পরেও দেখা দিতে পারে এবং গুরুতর বিলম্বিত অতিসংবেদনশীলতা ঘটতে পারে। যদি কোনো অতিসংবেদনশীলতা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তবে রিমেজিপ্যান্ট সেবন বন্ধ করুন এবং উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করুন।
বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহার
শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার: শিশু ও কিশোর রোগীদের ক্ষেত্রে এর নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার: ফার্মাকোকিনেটিক গবেষণায় বয়স্ক এবং তরুণদের মধ্যে ওষুধের কার্যকারিতায় কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়নি। তবে রিমেজিপ্যান্টের ক্লিনিকাল ট্রায়ালগুলোতে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী পর্যাপ্ত সংখ্যক রোগী অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না, যার ফলে তারা তরুণদের চেয়ে ভিন্নভাবে সাড়া দেন কিনা তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
যকৃতের কার্যকারিতা ব্যাহত হলে: মৃদু বা মাঝারি যকৃতের সমস্যাযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে রিমেজিপ্যান্টের ডোজ পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। তবে তীব্র বা গুরুতর যকৃতের সমস্যাযুক্ত রোগীদের রক্তে রিমেজিপ্যান্টের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। তাই গুরুতর যকৃতের সমস্যাযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে রিমেজিপ্যান্ট ব্যবহার পরিহার করুন।
কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে: মৃদু, মাঝারি বা গুরুতর কিডনির সমস্যাযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে রিমেজিপ্যান্টের ডোজ পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। এন্ড-স্টেজ রেনাল ডিজিজ (কিডনি বিকল হওয়া) এবং ডায়ালাইসিস করা রোগীদের ক্ষেত্রে রিমেজিপ্যান্টের প্রভাব নিয়ে কোনো গবেষণা করা হয়নি। তাই এন্ড-স্টেজ রেনাল ডিজিজ (CrCl <১৫ মিলি/মিনিট) রোগীদের ক্ষেত্রে রিমেজিপ্যান্ট ব্যবহার পরিহার করুন।
বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার: ফার্মাকোকিনেটিক গবেষণায় বয়স্ক এবং তরুণদের মধ্যে ওষুধের কার্যকারিতায় কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়নি। তবে রিমেজিপ্যান্টের ক্লিনিকাল ট্রায়ালগুলোতে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী পর্যাপ্ত সংখ্যক রোগী অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না, যার ফলে তারা তরুণদের চেয়ে ভিন্নভাবে সাড়া দেন কিনা তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
যকৃতের কার্যকারিতা ব্যাহত হলে: মৃদু বা মাঝারি যকৃতের সমস্যাযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে রিমেজিপ্যান্টের ডোজ পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। তবে তীব্র বা গুরুতর যকৃতের সমস্যাযুক্ত রোগীদের রক্তে রিমেজিপ্যান্টের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। তাই গুরুতর যকৃতের সমস্যাযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে রিমেজিপ্যান্ট ব্যবহার পরিহার করুন।
কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে: মৃদু, মাঝারি বা গুরুতর কিডনির সমস্যাযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে রিমেজিপ্যান্টের ডোজ পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। এন্ড-স্টেজ রেনাল ডিজিজ (কিডনি বিকল হওয়া) এবং ডায়ালাইসিস করা রোগীদের ক্ষেত্রে রিমেজিপ্যান্টের প্রভাব নিয়ে কোনো গবেষণা করা হয়নি। তাই এন্ড-স্টেজ রেনাল ডিজিজ (CrCl <১৫ মিলি/মিনিট) রোগীদের ক্ষেত্রে রিমেজিপ্যান্ট ব্যবহার পরিহার করুন।
মাত্রাধিক্যতা
রিমেজিপ্যান্টের মাত্রাতিরিক্ত সেবনের বিষয়ে সীমিত ক্লিনিকাল অভিজ্ঞতা রয়েছে। রিমেজিপ্যান্টের ওভারডোজ হলে সাধারণ সহায়তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, যার মধ্যে রয়েছে রোগীর ভাইটাল সাইন (রক্তচাপ, পালস ইত্যাদি) পর্যবেক্ষণ এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখা। রিমেজিপ্যান্ট ওভারডোজের চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিডোট (প্রতিষেধক) নেই। উচ্চ সিরাম প্রোটিন বাইন্ডিংয়ের কারণে ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে শরীর থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রিমেজিপ্যান্ট অপসারণ করা সম্ভব নয়।
থেরাপিউটিক ক্লাস
Other drugs for migraine
পুনর্গঠন প্রণালী
২৫°সে তাপমাত্রার নিচে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
