আইসোসরবাইড মোনোনিট্রেট

নির্দেশনা

কোরোনারী আর্টারী ডিজিজ (হৃদযন্ত্রের রক্তনালীর রোগ)-এর কারণে সৃষ্ট বুক ব্যথা বা অ্যানজাইনা পেক্টোরিস (Angina pectoris) প্রতিরোধ এবং চিকিৎসার জন্য আইসোসরবাইড মোনোনিট্রেট নির্দেশিত। মুখে খাওয়ার আইসোসরবাইড মোনোনিট্রেটের কার্যকারিতা শুরু হতে পর্যাপ্ত দ্রুত সময় নেয় না, তাই হঠাৎ শুরু হওয়া তীব্র বুক ব্যথা (Acute anginal episode) উপশমে এই ওষুধটি উপযোগী নয়।

ফার্মাকোলজি

আইসোসরবাইড মোনোনিট্রেট হলো আইসোসরবাইড ডাইনাইট্রেট (ISDN)-এর প্রধান সক্রিয় মেটাবোলাইট (Metabolite) বা রূপান্তরিত রূপ। ডাইনাইট্রেটের বেশিরভাগ ক্লিনিক্যাল কার্যকারিতাই মূলত এই মোনোনিট্রেটের কারণে হয়ে থাকে। আইসোসরবাইড মোনোনিট্রেটের প্রধান ফার্মাকোলজিক্যাল কাজ হলো রক্তনালীর মসৃণ পেশী শিথিল করা এবং এর ফলে পেরিফেরাল ধমনী ও শিরা (বিশেষ করে শিরা) প্রসারিত করা।

শিরা প্রসারিত হওয়ার কারণে পেরিফেরাল রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং হৃদযন্ত্রে রক্তের প্রত্যাবর্তন কমে যায়। এর ফলে বাম ভেন্ট্রিকুলারের এন্ড-ডায়াস্টোলিক চাপ এবং পালমোনারি ক্যাপিলারি ওয়েজ চাপ (Preload) কমে যায়। ধমনী শিথিল হওয়ার কারণে সিস্টেমিক ভাস্কুলার রেজিস্ট্যান্স, সিস্টোলিক আর্টারিয়াল চাপ এবং গড় আর্টারিয়াল চাপ (Afterload) হ্রাস পায়। এছাড়া এটি কোরোনারী ধমনীকেও প্রসারিত করে। প্রিলোড হ্রাস, আফটারলোড হ্রাস এবং কোরোনারী প্রসারণের আপেক্ষিক গুরুত্ব এখনো সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।

মাত্রা ও সেবনবিধি

ট্যাবলেট: সাধারণত মুখে খাওয়ার মাত্রা হলো প্রতিদিন ২টি করে ট্যাবলেট (২০ মিলিগ্রাম), প্রথম ডোজটি সকালে এবং দ্বিতীয় ডোজটি এর ৭ ঘণ্টা পর সেবন করতে হবে। যদিও কার্যকারিতা বজায় রাখার মাত্রা ২০ মিলিগ্রাম থেকে ১২০ মিলিগ্রাম (১-৬টি ট্যাবলেট) পর্যন্ত হতে পারে, তবে চিকিৎসার শুরুতে কম মাত্রা হিসেবে বা রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী ১০ মিলিগ্রাম (অর্ধেক ট্যাবলেট) ব্যবহার করা উপযুক্ত।

ক্যাপসুল: সাধারণত মুখে খাওয়ার মাত্রা হলো প্রতিদিন ১টি ক্যাপসুল (৫০ মিলিগ্রাম) অথবা রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

যেকোনো ফর্মে থাকা ফসফোডাইএস্টারেজ ইনহিবিটরস (Phosphodiesterase inhibitors) ওষুধের সাথে আইসোসরবাইড মোনোনিট্রেটের একযোগে ব্যবহার প্রতিনির্দেশিত (ব্যবহার করা যাবে না)।

সলুবল গুয়ানাইলেট সাইক্লেজ স্টিমুলেটর 'রিওসিগুয়াট' (Riociguat)-এর সাথে আইসোসরবাইড মোনোনিট্রেটের একযোগে ব্যবহার প্রতিনির্দেশিত।
আইসোসরবাইড মোনোনিট্রেটের রক্তনালী প্রসারণের প্রভাব অন্যান্য ভ্যাসোডাইলেটর (রক্তনালী প্রসারক) ওষুধের সাথে যুক্ত হয়ে প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় এই ধরনের প্রভাব বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার এবং অর্গানিক নাইট্রেট একসঙ্গে ব্যবহার করলে মারাত্মক লক্ষণযুক্ত অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন (হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেলে রক্তচাপ কমে যাওয়া) হতে পারে। সেক্ষেত্রে যেকোনো এক শ্রেণীর ওষুধের মাত্রা সমন্বয় করার প্রয়োজন হতে পারে।

প্রতিনির্দেশনা

আইসোসরবাইড মোনোনিট্রেটের প্রতি যাদের অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রতিনির্দেশিত। যেসব রোগী ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা লিঙ্গউত্থান জনিত সমস্যার জন্য নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ (ফসফোডাইএস্টারেজ ইনহিবিটরস) যেমন- সিলডেনাফিল, ট্যাডালাফিল বা ভার্ডেনাফিল সেবন করছেন, তারা কোনোভাবেই আইসোসরবাইড মোনোনিট্রেট ব্যবহার করবেন না। এর একযোগে ব্যবহার গুরুতর হাইপোটেনশন (রক্তচাপ কমে যাওয়া), সিনকোপ (জ্ঞান হারানো) বা মায়োকার্ডিয়াল ইস্কেমিয়া ঘটাতে পারে। সলুবল গুয়ানাইলেট সাইক্লেজ স্টিমুলেটর ‘রিওসিগুয়াট’ সেবন করছেন এমন রোগীদের ক্ষেত্রেও আইসোসরবাইড মোনোনিট্রেট ব্যবহার করা যাবে না, কারণ এর ফলে রক্তচাপ অতিরিক্ত কমে যেতে পারে।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

মাঝেমধ্যে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরার অনুভূতি এবং হাইপোটেনশন (নিম্ন রক্তচাপ) দেখা দিতে পারে।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

প্রেগন্যান্সি ক্যাটাগরি বি (Pregnancy Category B): ইঁদুর ও খরগোশের ওপর যথাক্রমে ৫৪০ এবং ৮১০ মিলিগ্রাম/কেজি/দিন পর্যন্ত মাত্রায় প্রজনন গবেষণা চালিয়ে ভ্রূণের কোনো ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে গর্ভবতী নারীদের ওপর পর্যাপ্ত এবং সুনিয়ন্ত্রিত কোনো গবেষণা নেই। যেহেতু প্রাণীদের ওপর করা গবেষণা সবসময় মানুষের প্রতিক্রিয়ার সঠিক পূর্বাভাস দেয় না, তাই গর্ভাবস্থায় আইসোসরবাইড মোনোনিট্রেট কেবল তখনই ব্যবহার করা উচিত যখন এটি স্পষ্টতই প্রয়োজন।

স্তন্যদানকারী মা: আইসোসরবাইড মোনোনিট্রেট মাতৃদুগ্ধে নিঃসৃত হয় কিনা তা জানা যায়নি। যেহেতু অনেক ওষুধ মাতৃদুগ্ধে নিঃসৃত হয়, তাই স্তন্যদানকারী মাকে আইসোসরবাইড মোনোনিট্রেট দেওয়ার সময় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

সতর্কতা

আইসোসরবাইড মোনোনিট্রেটের সামান্য মাত্রাতেও গুরুতর হাইপোটেনশন (বিশেষ করে সোজা হয়ে দাঁড়ালে রক্তচাপ কমে যাওয়া) হতে পারে। তাই যেসব রোগীর শরীরে তরলের ঘাটতি (Volume depleted) রয়েছে বা যেকোনো কারণে আগে থেকেই হাইপোটেনশন আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ওষুধটি সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত। আইসোসরবাইড মোনোনিট্রেট জনিত হাইপোটেনশনের সাথে প্যারাডক্সিক্যাল ব্রাডিকার্ডিয়া (হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক কমে যাওয়া) এবং বুক ব্যথা বৃদ্ধি পেতে পারে।

নাইট্রেট থেরাপি হাইপারট্রফিক কার্ডিওমায়োপ্যাথির কারণে সৃষ্ট বুক ব্যথাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

যেসব শিল্প কারখানার শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে অজ্ঞাত (সম্ভবত উচ্চ) মাত্রার অর্গানিক নাইট্রেটের সংস্পর্শে ছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে স্পষ্ট সহনশীলতা (Tolerance) তৈরি হয়। এসব শ্রমিকদের শরীর থেকে সাময়িকভাবে নাইট্রেট প্রত্যাহার করার সময় বুকে ব্যথা, তীব্র মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (হার্ট অ্যাটাক) এবং এমনকি আকস্মিক মৃত্যুও ঘটেছে, যা শারীরিক নির্ভরশীলতার (Physical dependence) প্রমাণ দেয়। তবে সাধারণ চিকিৎসায় মুখে খাওয়ার আইসোসরবাইড মোনোনিট্রেটের ক্ষেত্রে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব কতটুকু তা জানা যায়নি।

রোগীদের জানানো উচিত যে, আইসোসরবাইড মোনোনিট্রেট ট্যাবলেটের বুক ব্যথা প্রতিরোধী কার্যকারিতা বজায় রাখার জন্য চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়সূচী (৭ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি ডোজ) কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রে, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম ডোজ এবং এর ৭ ঘণ্টা পর দ্বিতীয় ডোজ সেবনের মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করা যায়।

অন্যান্য নাইট্রেটের মতো, আইসোসরবাইড মোনোনিট্রেট চিকিৎসার ফলেও মাঝে মাঝে প্রতিদিন মাথাব্যথা হতে পারে। যেসব রোগীদের এই মাথাব্যথা হয়, তাদের ক্ষেত্রে এটি ওষুধের কার্যকারিতার একটি লক্ষণ বা নির্দেশক। মাথাব্যথা এড়ানোর জন্য রোগীদের ওষুধ সেবনের সময়সূচী পরিবর্তন করার ইচ্ছে পরিহার করা উচিত, কারণ মাথাব্যথা কমে যাওয়ার সাথে সাথে ওষুধের বুক ব্যথা প্রতিরোধী কার্যকারিতাও হারিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, অ্যাসপিরিন এবং/অথবা অ্যাসিটামিনোফেন (প্যারাসিটামল) প্রায়শই আইসোসরবাইড মোনোনিট্রেট জনিত এই মাথাব্যথা সফলভাবে উপশম করে, যা ওষুধের কার্যকারিতায় কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না।

আইসোসরবাইড মোনোনিট্রেট সেবনের ফলে শোয়া বা বসা থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা হালকা লাগা বা ঘোরার অনুভূতি হতে পারে। যারা অ্যালকোহল সেবন করেছেন তাদের ক্ষেত্রে এই প্রভাবটি আরও বেশি দেখা দিতে পারে।

থেরাপিউটিক ক্লাস

Nitrates: Coronary vasodilators

সংরক্ষণ

৩০° সেলসিয়াসের নিচে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
Thanks for using MedEx!
How would you rate your experience so far?