ন্যাটামাইসিন

নির্দেশনা

ন্যাটামাইসিন অপথালমিক সাসপেনশন স্পর্শকাতর অণুজীব দ্বারা সৃষ্ট চোখের ছত্রাকজনিত ব্লেফারাইটিস (চোখের পাতার প্রদাহ), কনজাংটিভাইটিস (চোখ ওঠা) এবং কেরাটাইটিস (কর্ণিয়ার প্রদাহ) এর চিকিৎসায় নির্দেশিত, যার মধ্যে Fusarium solani দ্বারা সৃষ্ট কেরাটাইটিসও অন্তর্ভুক্ত।

ফার্মাকোলজি

ন্যাটামাইসিন হলো একটি টেট্রায়েন পলিইন অ্যান্টিবায়োটিক যা Streptomyces natalensis থেকে প্রাপ্ত। ন্যাটামাইসিন সম্ভবত ছত্রাকের কোষঝিল্লির স্টেরলের সাথে যুক্ত হয়ে এর কার্যকারিতা প্রকাশ করে। এর ফলে কোষঝিল্লির ভেদ্যতা পরিবর্তিত হয় এবং কোষের অপরিহার্য উপাদানসমূহ বের হয়ে যায়। গবেষণাগারে এটি ক্যান্ডিডা, অ্যাসপারজিলাস, সেফালোস্পোরিয়াম, ফিউসারিয়াম এবং পেনিসিলিয়ামসহ বিভিন্ন ধরণের ইস্ট এবং ফিলামেন্টাস ছত্রাকের বিরুদ্ধে কার্যকারিতা প্রদর্শন করে। যদিও ছত্রাকের বিরুদ্ধে এর কার্যকারিতা মাত্রার ওপর নির্ভরশীল, তবুও ন্যাটামাইসিন প্রধানত ছত্রাক ধ্বংসকারী হিসেবে কাজ করে। চোখে ড্রপ হিসেবে ব্যবহারের ফলে এটি চোখের কর্ণিয়াল স্ট্রোমার অভ্যন্তরে কার্যকর মাত্রায় পৌঁছায়, তবে চোখের অভ্যন্তরীণ তরলে এটি প্রবেশ করে না।

মাত্রা ও সেবনবিধি

ছত্রাকজনিত কেরাটাইটিস এর ক্ষেত্রে: প্রাথমিক অবস্থায় ১ ফোঁটা করে আক্রান্ত চোখের কনজাংটিভাল স্যাকে (চোখের নিচের পাতায়) ১-২ ঘণ্টা পর পর ব্যবহার করা শ্রেয়। প্রথম ৩-৪ দিন পর ব্যবহারের মাত্রা সাধারণত কমিয়ে দৈনিক ৬-৮ বার ১ ফোঁটা করে দেওয়া যেতে পারে। সাধারণত এই চিকিৎসা ১৪ থেকে ২১ দিন অথবা কেরাটাইটিস সম্পূর্ণ নিরাময় না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া উচিত।

ছত্রাকজনিত ব্লেফারাইটিস এবং কনজাংটিভাইটিস এর ক্ষেত্রে: দৈনিক ৪-৬ বার ১ ফোঁটা করে ব্যবহার করাই যথেষ্ট হতে পারে।

শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার: শিশুদের ক্ষেত্রে এর নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

চোখে ব্যবহার্য কর্টিকোস্টেরয়েড এর সাথে এটি ব্যবহার করলে চোখের ছত্রাকজনিত ইনফেকশন বা সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

প্রতিনির্দেশনা

ন্যাটামাইসিন অপথালমিক সাসপেনশনের যেকোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতার (অ্যালার্জি) ইতিহাস থাকলে এটি ব্যবহার করা যাবে না।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

চোখে জ্বালাপোড়া, চোখে অস্বস্তি, চোখ ফুলে যাওয়া, কনজাংটিভাল কেমোসিস (চোখের ঝিল্লি ফুলে যাওয়া) এবং কনজাংটিভাল হাইপারেমিয়া (চোখ লাল হওয়া) হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

প্রেগন্যান্সি ক্যাটাগরি সি। ন্যাটামাইসিন নিয়ে প্রাণীদের ওপর কোনো প্রজনন গবেষণা করা হয়নি। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারের ফলে ভ্রূণের কোনো ক্ষতি হতে পারে কিনা বা প্রজনন ক্ষমতার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে কিনা তা জানা যায়নি। তাই গর্ভাবস্থায় ন্যাটামাইসিন অপথালমিক সাসপেনশন কেবল তখনই দেওয়া উচিত, যখন এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়। এই ঔষধটি মাতৃদুগ্ধে নিঃসৃত হয় কিনা তা জানা যায়নি। যেহেতু অনেক ঔষধই মাতৃদুগ্ধে নিঃসৃত হয়, তাই স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে ন্যাটামাইসিন ব্যবহারের সময় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

সতর্কতা

ড্রপারের অগ্রভাগ হাত বা অন্য কোনো উপাদানের সংস্পর্শে আনবেন না, এতে ড্রপের তরলটি দূষিত হতে পারে।

রোগীদের পরামর্শ দেওয়া উচিত যেন ছত্রাকজনিত ব্লেফারাইটিস, কনজাংটিভাইটিস এবং কেরাটাইটিসের লক্ষণ বা উপসর্গ থাকাকালীন তারা কন্ট্যাক্ট লেন্স পরিধান না করেন।

৭-১০ দিন ব্যবহারের পরেও যদি কেরাটাইটিসের কোনো উন্নতি না হয়, তবে বুঝতে হবে যে এই সংক্রমণটি এমন কোনো অণুজীব দ্বারা ঘটেছে যা নাটামাইসিনের প্রতি সংবেদনশীল নয়। পরবর্তী চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের পুনঃমূল্যায়ন এবং ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া উচিত।

চোখের ক্ষত স্থানসমূহে বা চোখের পাতার ভেতরের অংশে এই সাসপেনশনের অবশিষ্টাংশ নিয়মিতভাবে লেগে বা জমা থাকতে দেখা যেতে পারে।

বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহার

ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন। আলো থেকে দূরে রাখুন। ফ্রিজে জমিয়ে ফেলবেন না। বোতলের মুখ প্রথমবার খোলার পর এক মাসের বেশি সময় ধরে এটি ব্যবহার করবেন না।

থেরাপিউটিক ক্লাস

Ophthalmic antibacterial drugs
Thanks for using MedEx!
How would you rate your experience so far?